/ রূপসায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকের নীরব বিপ্লব: ৪৬০ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলন

রূপসায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকের নীরব বিপ্লব: ৪৬০ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলন

এইচ এম রোকন, রূপসা (খুলনা) : খুলনার রূপসা উপজেলায় বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি চাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে।উপজেলার ঘাটভোগ, আইচগাতি ও নৈহাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের সবুজ ও রঙিন সবজি। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং স্থানীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সবজি চাষে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের শত শত কৃষক পরিবারের। 

সম্পূর্ণ জৈব সার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় এখানকার সবজির চাহিদা এখন খুলনার গন্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রূপসা উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা বিগত বছরগুলোর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ও আধুনিক কৃষি প্রণোদনার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ কৃষকেরাও এখন ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে ঝুঁকছেন।রূপসা উপজেলার সার্বিক সবজি চাষের এই বিপুল অগ্রগতি ও বর্তমান পরিসংখ্যান নিয়ে কথা হয় রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার তরুন কুমার বালা-র সাথে। তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন, চলতি মৌসুমে রূপসা উপজেলায় মোট ৪৬০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১০ হেক্টর বেশি। এটি উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন। কৃষকদের আগ্রহের বিষয়ে তিনি আরও জানান, এখানকার কৃষকেরা বিশেষ করে শশা, করলা, লাউ ও মিষ্টি কুমড়া চাষে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বর্তমানে বাজারে সবজির বেশ ভালো দাম রয়েছে। ফলে ফলন ঘরে তোলার পর কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
 
লাভ ও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকায় এবার উপজেলার সবজি আবাদ আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের যেকোনো ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।ঘাটভোগ ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের সফল চাষী বারেক বলেন, আমি এবার দুই বিঘা জমিতে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত পদ্ধতিতে করলা ও লাউ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। আগে আমরা প্রচুর রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম, কিন্তু এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে জৈব সার এবং সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করছি। এতে খরচ কমেছে এবং ফসলের মানও ভালো হয়েছে।আইচগাতি এলাকার নারী উদ্যোক্তা ও একজন সবজি চাষী বলেন, বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে শাকসবজি চাষ করে আমাদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে, আবার বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে। এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।উপজেলায় সবজি চাষের এই জোয়ার গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরাপদ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।