/ মৌসুমের প্রথম দিনে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কবলে দুবলার চরের ৭ হাজার শুঁটকি জেলে

মৌসুমের প্রথম দিনে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কবলে দুবলার চরের ৭ হাজার শুঁটকি জেলে

শরণখোলা সংবাদাতা ঃ ঘূর্নিঝড় অর্ণবের তান্ডবের কারনে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুবলারচরের সাত হাজার শুঁটকি জেলে। মৌসুমের শুরুতে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দুবলার চরের আলোরকোলে শুক্রবার সকালে পৌঁছে জেলেরা এ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। নৌকা ও ট্রলার নিয়ে তারা সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান শুক্রবার বিকালে মুঠো ফোনে জানান, মৌসুমের প্রথম দিন শুক্রবার সকালে আনুমানিক সাত হাজার শুঁটকি জেলে দুবলার চরে সমবেত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারনে জেলেরা প্রথম দিনেই একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তারা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। তিনি জানান, আলোরকোল, মাঝেরকিল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচর নিয়ে দুবলারচর গঠিত। প্রতি বছর পটুয়াখালী, খুলনা, পিরোজপুর সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দশ সহস্রাধিক জেলে দুবলার এ চারটি চরে অবস্থান নিয়ে সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি করে থাকেন। পরে জেলে মহাজনরা শুঁটকি মাছ বাজারজাত করার জন্য খুলনা, সৈয়দপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্রগাম, কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠান।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ মুঠো ফোনে জানান, এবারের দুবলার শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই জেলেরা দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে রওয়ানা করে জেলে বহর শুক্রবার সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচরে পৌঁছান। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরে নেমে জেলেরা তাদের থাকার অস্থায়ী ঘর ও মাছ রাখার গোলা বানাতে না পেরে তারা নৌকা ট্রলার নিয়ে দ্রুত ছুটেছে সুন্দরবনের ছোট ছোট খালের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার জন্য। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সাগরে বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউ আছড়ে পরায় জেলেরা আতংকের মধ্যে পড়েছেন বলে কামাল উদ্দিন জানান।