/ নগরীর জিয়া হলের চারপাশে নান্দনিক সীমানা প্রাচীরের কাজ হঠাৎ বন্ধ, নেপথ্যে চাঁদাবাজি

নগরীর জিয়া হলের চারপাশে নান্দনিক সীমানা প্রাচীরের কাজ হঠাৎ বন্ধ, নেপথ্যে চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ভেঙ্গে ফেলা জিয়া হল ভবনের চারপাশে নানন্দিক সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু করেছিল কেসিসি। ভবিষ্যতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের কথা মাথায় রেখে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাচীরটি আধুনিক সরঞ্জাম ও নকশায় তৈরি করা হচ্ছিলো। গত সপ্তাহ থেকে প্রাচীরের কেডিএ অ্যাভিনিউ অংশের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় কিছু বখাটে চাঁদাবাজদের কারণে কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। নামসর্বস্ব কিছু অনলাইন মিডিয়ার কথিত সাংবাদিকও এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে কেসিসির প্রকৌশলীদের নির্দেশেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অবশ্য নির্মাণ কাজের ঠিকাদার এবং প্রকৌশলীদের কেউই এবিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, ভেঙে ফেলা জিয়া হলের স্থানে সীমানা প্রাচীরটি দীর্ঘদিন ধরেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। বিশাল জায়গার অধিকাংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এর ভাঙা অংশ গিয়ে ভেতরে মাদক সেবন, বিক্রিসহ অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হতো। জিয়া হলের ভেতরে বখাটের প্রবেশ বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে ওই স্থানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কথা মাথায় রেখে নান্দনিক নকশা তৈরি কর হয়। গত জুলাই মাসে এই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এই কাজ পায় মেসার্স রাজিব কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী জিয়া হলের পূর্ব-উত্তর ও পশ্চিম প্রান্তে গোলাকৃতি প্রায় ৪ দশমিক ২৫ বিঘা জমির চারপাশে মোট ৮০৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। প্রাচীরে ৬১টি ও দুইটি গেটের জন্য আরো ৪টিসহ মোট ৬৫টি পিলার থাকবে।

সূত্রটি জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রায় সাড়ে চার ফিট গভীর করে গর্ত খোঁড়া হয়। প্রতিটি পিলারের নিচে প্রথমে ইট সোলিং করা হয়েছে। এরপর তিন ফুট তিন ইঞ্চি চওড়া ও তিন ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা সিসি ঢালাই করা হয়েছে। এর উপর আরসিসি ঢালাই করে তিন ফুট লম্বা শর্ট কলাম করা হয়েছে। এর উপর ১২ ইঞ্চি চওড়া গ্রেট বিম দেয়া হয়েছে, যেটা ভূমি থেকে উপরে বাউন্ডারি সীমানায় দৃশ্যমান হয়েছে। অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি সীমানা প্রাচীরের ৩ ফুট ইট এবং বাঁকি ৪ ফুটের জন্য নান্দনিক নকশার গ্রিল নির্মাণ হবে। প্রতিটি পিলারের মধ্যে আলোর ব্যবস্থা করতে এলইডি টিউব লাইট বসানো হচ্ছে। চলতি ডিসেম্বর মাসে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, একটি পিলার নির্মাণ করার সময় মাটির গভীরে সলিং করার সময় ভুলবশত পুরাতন ইট ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি ধরা পড়ার পর মিস্ত্রিকে বকাঝকা করা হয়। বকাঝকার সময় পাশে দাড়ানো কিছু বখাটে এটি ভিডিও করেন। তারা মিস্ত্রিকেও বকাঝকার কারণ জানতে চান। মিস্ত্রিও খোলা মনে বলেন ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দেন। এই ভিডিও নিয়ে তারা ক্ষণে ক্ষণে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে ব্লাকমেইল করতে থাকে। পরদিন কিছু অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক কাজের স্থানে এসে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে যোগাযোগ না করলে হুমকি দিয়ে যান। চাঁদাবাজ ওই গোষ্ঠী বিষয়টি কেসিসির শীর্ষ প্রকৌশলীদেরও জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র বাড়ই জানান, অভিযোগ পেয়ে কেসিসির প্রকৌশলীরা পুরো কাজ মেপে দেখেছে। কোথাও তারা কোনো ত্রুটি পায়নি। কেডিএ অ্যাভিনিউয়ের মতো প্রধান সড়কের পাশে নির্মাণ কাজে কিছুক্ষণ পর পর প্রকৌশলী, স্থপতি কাজ দেখতে আসেন। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। কিন্তু নির্ধারিত খরচ না দিলে একটি গোষ্ঠী কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এজন্য ইচ্ছে করেই আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে কেসিসির পক্ষ থেকে আবারও মাপঝোঁক করা হোক। অনিয়ম খুঁজে পান যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু কিছু দিন দিন পর ছোট ছোট গ্রুপকে এভাবে ম্যানেজ করা সম্ভব না।

সীমানা প্রাচীর কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনি জামিল চৌধুরী বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সীমানা প্রাচীরের একপাশের কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী দেশে আসলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।