আবাসন ভিত্তিক শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত
রামপাল(বাগেরহাট)প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কোনো আবাসন প্রকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এরফলে ওইসব আবাসনের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষা লাভের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে ১০ ইউনিয়নের সমন্নয়ে গঠিত উপকুলীয় এ উপজেলায় নুতন পুরাতন মিলে প্রায় ২০ টির মতো আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এসব আবাসন প্রকল্পে বসবাস করে শত শত দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবার। প্রত্যেকটি পরিবারে রয়েছে একাধিক ছেলেমেয়ে। এ সব আবাসন সংলগ্ন কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছেনা। কোনো কোনো অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদেরকে দুরে কোনো বিদ্যালয়ে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে আবার কেউ কেউ দুরে পাঠাতেও ভয় পায়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে এ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিতে নুতন পুরাতন মিলে প্রায় ২০ টির মতো আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এসব আবাসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ফয়লাহাট পার- গোবিন্দপুর, গোবিন্দপুর আদর্শ গ্রাম, শ্রীফলতলা আবাসন প্রকল্প, পেড়িখালি সিকিরডাঙ্গা আবাসন প্রকল্প, বাশতলী মুজিবনগর আবাসন প্রকল্প, গৌরম্ভা আবাসন প্রকল্প,কাষ্টবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প, কৈর্দাসকাঠি আবাসন প্রকল্প, বড়দিয়া আবাসন প্রকল্প, গৌরম্ভা নতন আবাসন প্রকল্প, শ্রীফলতলা নুতন আবাসন প্রকল্প, পেড়িখালি নতন আবাসন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এসব আবাসনের মধ্যে কেবলমাত্র কৈগর্দাসকাঠি নুতন আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো আবাসন প্রকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।
উল্লেখ্য এসব আবাসন প্রকল্পে শতশত দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের অসংখ্য ছেলেমেয়ে রয়েছে। যাদের লেখাপড়ার করানোর মতো কোনো বিদ্যালয় নেই। বেশ কয়েকজন আবাসন বাসিন্দা বলেন আবাসন প্রকল্প নির্মানের সময় ছেরেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় আজ তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবাসনের ধারে কাছে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় আমরা আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কয়েকজন অভিভাবক বলেন বাচ্চাদের দুরে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর ইচ্ছা আমাদের থাকলেও বিদ্যালয়ের অভাবে তা পারছিনা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন যেসব আবাসনে অথবা আবাসনের ধারে কাছে কেনো কিবদ্যালয় নেই সেইসব আবাসনের ছেলে মেয়েদের নিকটাস্থ কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নুতন করে কোনো বিদ্যালয় স্থাপন না হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে নুতন করে আর কোনো বিদ্যালয় পতিষ্ঠা করবে বিনা সরকার সে বিষয় তিনি পরি¯কার করে কিছুই জানাতে পারেন নি।