কর্মসংস্থানের অভাব
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট ॥ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে উপকূলীয় উপজেলা রামপালের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। আর এ কারনে বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের পেশাও বদল করছে। দিন দিন পেশা বদলের মাত্র বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে কর্মসংস্থানের অভাবও বেড়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারন মানষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে উপকুলীয় এ উপজেলায় আশির দশকের পূর্বে গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ এমন প্রবাদ বাক্য ছিল এ উপজেলা নিয়ে। এক সময় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদন হতো। কারো ঘরে খাবারের অভাব ছিলনা। কারো পেশ্ওা বদল করতে হয়নি। ১৯৮০ সালে আমনের জমিতে বেড়িবাধ দিয়ে আমনের পরিবর্তে লবন পানিতে বানিজ্যিক উপায়ে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। ওই সময় থেকে ধীরে ধীরে এ উপজেলায় আমনের আবাদ হ্রাস পেতে থাকে । এখন মাত্র ৮ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়। আমনের তুলনায় চিংড়িতে লাভ বেশি হওয়ায় মানুষ দ্রুত আমনের উৎপাদন বন্ধ করে চিংড়ি উৎপাদনে ঝুকে পড়ে। এরফলে উৎপাদন সংশ্ষ্টিতায় থাকা অনেকের পেশা বদলে যায়। দেখা দেয় কর্মসংস্থানেরও। অনেকে বেচে থাকার তাগিদে বেছে নেয় ভিন্ন পেশা।
এক সময় নদী মাতৃক এ উপজেলায় শত শত জেলে নদী-খালে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯৮০ সালে এ উপজেলায় বানিজ্যিক উপায় চিংড়ি চাষ শুরু হলে ধীরে ধীরে নদী-খালে নব্যতা সংকট দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে এক সময় পলি জমে নদী-খাল খরাট হয়ে যায়। আনুমানিক ২০০৮ সালে এ উপজেলার প্রায় সব নদী খালের তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেলে জেলেদের মাছ ধরার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় মোংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেলসহ এ উপজেলার সব নদী খালে নৌ-চলাচল। বাধ্য হয়ে নৌপথের বানিজ্য বন্ধের পাশাপাশি শত শত জেলের পেশা বদল করতে হয়। জেলেদের অনেকেই এখন কেউ দোকান কর্মচারী, দিন মুুজুরী, রাজ মিস্ত্রির যোগানদার, ক্ষুদ্র দোকানী,ভ্যান ও অটোচালকের পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তিও করেন।
বিগত সরকারের শাসনামলে ভরাট হওয়া আন্তর্জাতিক নৌ-পথ মোংলা-ঘষিয়াখালিসহ এ উপজেলার পাঁচটি নদী ও তিরাশিটি সরকারি মালিকানাধীন খাল খনন করা হয়। খননের পর পুনরায় এসব নদী-খালে নব্যতা ফিরে এলে নৌ-চলাচল শুরু হয়। তবে আগের মতো নদী খাল নিয়ে তেমন কেউ আগ্রহী হয়নি। জেলে পেশা ছেড়ে যারা অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে নদী-খালে মাছ না থাকায় তারাও কেউ পেশা বদল করে ফিওে আসেনি। একজন পেশাদার জেলে বলেন এখন নদী খালে আগের মতো মাছ নেই। আর এখন ইচ্ছা করলেই নদী খালে জাল ধরা যায় না। সরকারের নিষেধ আছে। এখন সারাদিন নদীতে জাল দিয়ে ৩-৪’শ টাকারও মাছ মেলেনা। এ কারনে পেশা বদল কেরে সবাই অণ্য পেশায় চলে গেছে। তিনি আরও বলেন শুধূ জেলেরা নয় অন্য পেশার অনেক মানুষও পেশা বদল করেছে। অনেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে। বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বসবাস করে এমন অনেকে কর্মসংস্থানের অভাবে আবাসন ছেড়ে গেছে।
পেশা বদল করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে এমন একজন বলেন রামপাল উপজেলার অনেক নারী ও পুরুষ দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ইপিজেডএ কাজ করছে। অনেকে ভ্যান , ইজিবাইক, মাহেন্দ্র চালিয়ে জীবন বাচাচ্ছে। জরবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে উপকূলীয় এ উপজেলার বিভিন্ন পেশার মানুষের উপার্জন কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ভিন্ন পোশা বেছে নিয়েছে। তারপরও এ উপজেলায় দারিদ্রের হার ১৫ শতাংশ। নদী মাতৃক এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ এক সময় নদীর উপর নির্ভর করে জীবন জীাবকা নির্বাহ করতেন। পেশা বদল করে কেউ কেউ অন্য পেশায় গেলেও বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ঋষি পেশার মানুষ একেবারেই পেশা বদল করে ফেলেছে। তারা তাদের বেশির ভাগ ব্যবসা আবার কেউ কেউ নরসুন্দও ব্যবসা বেছে নিয়েছেন। অনেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে হয়েছে বাস্তহারা হয়েছে। এ ভাবে বেকারত্বে সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।
এমন অবস্থায় বেকার নারী-পুরুষকে বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষন দিয়ে উপযুক্ত হিসাবে গড়ে তুলে তাদেরকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনতে হবে এমনটা মনে করেন সুশীল সমাজ। মোংলা ইপিজেড এলাকায় কর্মসংস্থানের সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও এখনও বহু নারী- পুরুষ কর্মসংস্থান করতে পারেনি। রামপাল এলাকায় শিল্প কারখানার সংখ্যা তেমন একটা গড়ে ওঠেনি। এ কারনে পেশা হারানো নারী-পুরুষের সংখ্যার একটা বড় অংশ মোংলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আবার পেশা হারানো কেউ কেউ মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
রামপাল উপজেলা এিনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন বর্তমান সরকার বেকারত্ব দূরিকরনে কাজ করছে। দক্ষিনাঞ্চলে নুতন নুতন শিল্প কলখারখানা গড়ে উঠছে। এতে করে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে অনেকের পেশা বদল হয়েছে। বর্তমান সরকার মোংলা বন্দরকে আধূনিকায়ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই সাথে রামপালে বিমান বন্দর নির্মান হলে আরো অনেকেরই কর্মসংস্থান হবে।