/ চিতলমারীতে লাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু

চিতলমারীতে লাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু

নিজস্ব সংবাদদাতা চিতলমারী : চিতলমারীতে গবাদি পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন রোগ। ভাইরাস জনিত এরোগে রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু। এলাকার বিভিন্ন খামারী ও গৃহস্থের গোয়ালের গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে এ রোগের ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন। গবাদি পশুতে এ সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় দুচিন্তায় পড়েছেন খামারিরা । বিষয়টি প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, গ্রীষ্মের শুরুতে এলাকার অনেক গবাদি পশুর দেহে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস নামে একটি ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে গবাদি পশুর দেহে পচন ধরে যাচ্ছে এবং খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফলে আক্রান্ত পশুরা কোন খাদ্য গ্রহন করছে না। এমনকি উঠে দাাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না দেহে। অনেক বাড়িতে দেখা গেছে, আক্রান্ত পশুর নিথর দেহ পড়ে আছে। এ সকল পশুর ঠিকমত চিকিৎসা না হওয়ায় অনেক স্থানে মারা যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অনেকে।


উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসিম মণ্ডল জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার গোয়ালের একটি গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। সেটিকে অনেক চিকিৎসা করেও কোন ভাবে বাঁচানো যায়নি। এ রোগে পশুর দেহের অনেক অংশ পচন ধরেছিল এবং প্রচণ্ড জ্বর থাকত সবসময়। এ অবস্থায় খুবই যন্ত্রণায় ছটপট করতে করতে পহেলা এপ্রিল বুধবার সকালে গরুটি মারা গেছে। লাখ টাকার উপরে এটির দাম ছিল। দরিদ্র কৃষকের জন্য এ ধকল কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া ওই গ্রামের স্বপন মণ্ডলের একটি গাভী এ রোগে মারা গেছে। আরো অনেকের পশু আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।


ব্রহ্মগাতী গ্রামের আশ্বাব শেক জানান, তাদের প্রতিবেশি সেকেন্দার হাওলাদার ,বক্কর শেখসহ অনেকের গবাধি পশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার উমাজুড়ি গ্রামের অগূর্ব হীরা জানান, তাদের গোয়ালের একটি পশু আক্রান্ত হয়েছে। সেটিকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এছাড়া তাদের প্রতিবেশি শশধর হীরার একটি পশু আক্রান্ত হবার খবর জানান তিনি। ধলইতলার বাসিন্দা আবু সাইদ শেখ জানান, তার একটি গবাদি পশু এ রোগে আক্রন্ত হয়েছে। এলাকার অনেকে জানান, এ রোগটি চিতলমারী ও আশপাশের উপজেলায়ও দেখা দিয়েছে এমনটি খবর এসেছে তাদের কাছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. আহম্মেদ ইকবাল জানান, এ রোগটির নাম লাম্পি স্কিন ডিজিজ।মশা,মাছি ও অন্যন্য পতঙ্গের মাধ্যমে এরোগ দ্রুত এক প্রাণী থেকে অন্যপ্রাণীর দেহে ছড়ায়। এটি একটি ভাইরাস জনিত চর্মরোগ। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে এ রোগের ভ্যাকসিন তাদের কাছে কোন মজুদ নেই। যেটি ছিলো তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে।