/ যশোরের সরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট সিন্ডিকেট

যশোরের সরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট সিন্ডিকেট

প্রদীপ ঘোষ,যশোর : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারী এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তারা শহরের একটি স্বনামধন্য হসপিটালের মতো হুবহু প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করছেন। রোগীর স্বজনদের বোকা বানিয়ে এ অনৈতিকতায় চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ৬ এপ্রিল বিকেলে অসুস্থ অবস্থায় এক রোগীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালের পরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে। চিকিৎসক রোগীর বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার পরামর্শ দেন। এসময় ওয়ার্ডের কর্মচারীরা বাইরের দালালদের ডেকে এনে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেন। রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাতে কুইন্স হসপিটালের প্যাডে রিপোর্ট ধরিয়ে দেয়া হয়। রাতেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। গভীর রাতে প্যাথলজি রিপোর্ট দেয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কুইন্স হসপিটালে যোগাযোগ করে জানতে পারেন রিপোর্ট ভুয়া। কুইন্স হসপিটাল কর্তৃপক্ষ রিপোর্টটি তাদের নয় বলে নিশ্চিত করে বলেন, ওই রিপোর্ট তাদের প্যাড ও চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৭ এপ্রিল (রোববার) কুইন্স হসপিটালের একটি প্রতিনিধি দল জেনারেল হাসপাতালেল পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে ইব্রাহিম ও সাইফুল নামে দুই রোগীর কাছ থেকে ভুয়া রিপোর্ট উদ্ধার করেন। পরে তারা বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অবহিত করেন। তারা জানতে পেরেছেন, জেনারেল হাসপাতালের কর্মচারী ২ জন ও এক দালাল এ ভুয়া রিপোর্ট সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তবে অভিযুক্ত কর্মচারীরা এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ভুয়া রিপোর্টের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। রোগীর স্বজনদের ভুল বুঝিয়ে দালালরা এ কাজ করতে পারে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, প্যাথলজিক্যাল রোগী পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন। সেই রিপোর্ট নিয়ে অসাধুদের প্রতারণা মারাত্মক অন্যায়। ভুয়া রিপোর্টে রোগীরা ভুল চিকিৎসার শিকার হতে পারেন। এতে রোগীদের প্রাণহানীর মত ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতালের কোন কর্মচারী ভুয়া রিপোর্ট সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।