যশোর ব্যুরোঃ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে চিকিৎসক দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রিপোর্ট সংগ্রহ এবং ওষুধ পাওয়া—প্রতিটি ধাপেই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা| দীর্ঘ লাইন, জনবল সংকট, সীমিত কাউন্টার, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ওষুধের সংকট মিলিয়ে হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা|
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও টিকিট বিতরণ করা হয় মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে| ফলে টিকিট সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়| টিকিট পাওয়ার পর চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়| অনেক সময় চিকিৎসক কক্ষে না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ তাদের|
রোগীরা জানান, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে ক্যাশ কাউন্টারেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়| মাত্র দুটি কাউন্টার দিয়ে অর্থ গ্রহণ করা হয়| আবার সকাল শেষে নির্ধারিত সময় পার হলে আর টাকা নেওয়া হয় না| এতে অনেক রোগী সেদিন পরীক্ষা করাতে না পেরে পরদিন আবার হাসপাতালে আসতে বাধ্য হন| চুড়ামনকাটি গ্রামের সাথী বেগম বলেন, হাসপাতালে প্রতিটি ধাপেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে| টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন|
বহির্বিভাগের রোগী মুন্না, পারভিনা খাতুন, মুকুল হোসেন ও শিরিন আক্তার জানান, ক্যাশ কাউন্টারে সীমিত সময় পর্যন্ত অর্থ নেওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা করাতে পারেন না| পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট সংগ্রহেও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়|
প্যাথলজি বিভাগেও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে| অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট পরদিন দেওয়া হয়| ফলে চিকিৎসা সম্পন্ন করতে রোগীদের দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রোগী আতিকুর রহমান ও জয়নাল আবেদিন|
অন্তর্বিভাগের রোগী ও ¯^জনদের অভিযোগ, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দিলেও নমুনা সংগ্রহে বিল¤^ হয়| অনেক সময় রোগীর ¯^জনদের তাগাদা দেওয়ার পরও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না| ফলে রিপোর্ট পেতেও পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়|
চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পরও নতুন সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা| হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না| রোগী শিরিনা খাতুন, রাহাত আলীসহ কয়েকজন জানান, বিনামূল্যে সরবরাহের তালিকায় থাকা সাধারণ ওষুধও অনেক সময় মজুত থাকে না| ফলে দরিদ্র রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না|
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়| বহির্বিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন| সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে চাপ ˆতরি হচ্ছে| তিনি রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি ¯^ীকার করে বলেন, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে|