/ সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়

সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়

রূপসায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো.আমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি, রূপসা (খুলনা) ঃ খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক| তিনি বলেছেন, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে|


গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন|


প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে| ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও পেশাগত স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে| পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে যুক্ত করে মোট ৫০০ জনকে এ সুবিধা দেওয়া হবে|


তিনি বলেন, আমরা চাই খেলাধুলা একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক| একজন বাবা-মা যেমন সন্তানকে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তেমনি সন্তানকে খেলোয়াড় হিসেবেও গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখবেন| সেই পরিবেশ ˆতরি করাই আমাদের লক্ষ্য|
মো. আমিনুল হক জানান, সরকারের ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে| এতে অংশ নিয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরী| জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে| আগামী ২১ জুলাই জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হবে, যা ২৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে|


তিনি বলেন, এসব প্রতিযোগিতা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) তে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে| সেখানে তাদের লেখাপড়া ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে| খুলনায় অবস্থিত বিকেএসপিকেও আরও আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে|


খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি জাতীয় কমিটি মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারে কাজ করছে| পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন মাঠ নির্মাণ ও পুরোনো মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে|
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের আট বিভাগ ও দুটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে মোট ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে| এসব ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি ও শুটিংসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলা হবে|


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণ করা গেলে সেখানে খেলার মাঠ নির্মাণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে| পালেরহাট মাঠকেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে|
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাই তরুণদের মাদক ও অতিরিক্ত মোবাইলনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে পারে| একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই| এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে|


অনুষ্ঠানের উদ্বোধক খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে| স্কাউটস, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং ও ফুটবলে এ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন| তিনি এ ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় পৃথক আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান| তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি যুবসমাজকে শৃঙ্খলাবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে| ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তিন উপজেলাকে মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে|


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, বিসিবির সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু| সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম| এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুর রহমান মিন্টু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান,তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী,রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা এনামুল কবীর, আরিফুর রহমান আরিফ, আনিসুজ্জামান বিশ্বাস, এম এ সালাম,আছাফুর রহমান,জেলা শ্রমিকদলের আহবায়ক উজ্জল কুমার সাহা,খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ ইশতি, জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস,রূপসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র|


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ˆনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ডিসপ্লে শো পরিবেশন করে| মধুপুর ঢালী দলের সদস্যরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করেন| পরে প্রধান অতিথি প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন|
১৫ দলের এ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ফুটবল দল ও মধুপুর ইউনিয়ন ফুটবল দল মুখোমুখি হয়| খেলায় ¯^াগতিক শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ১-০ গোলে তেরখাদার মধুপুর ইউনিয়নকে হারায়| খেলা পরিচালনা করেন ফিফা রেফারি জুনায়েদ শরীফসহ জাতীয় রেফারিরা| এসময় মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দা|