ব্যবহার করছেন না পথচারীরা
বিপুল অংকের টাকা গচ্চা
স্টাফ রিপোর্টার : কাজে আসছে না সাড়ে ৭ কোটি টাকা নিয়ে নির্মাণ করা খুলনার দুই ফুট ওভারব্রিজ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবং দৌলতপুর বিএল কলেজের সামনে ওভারব্রিজ দুটি নির্মাণ করেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ওভারব্রিজে না উঠে পথচারীরা এখনও সরাসরি সড়ক পারাপার হচ্ছেন। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়ে গেছে আগের মতোই। স্থান নির্ধারণ ঠিক না হওয়ায় ফুট ওভারব্রিজের প্রতি পথচারীদের আগ্রহ কম বলে অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকার স্থাপনা দুটি ব্যবহার হচ্ছে কিশোর-তরুণদের টিকটক ভিডিও তৈরি এবং ফটোসেশনের কাজে।
সড়ক বিভাগ থেকে জানা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে গত জুন মাসে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। একই মাসে খুলনা-যশোর মহাসড়কের দৌলতপুরে বিএল কলেজের কাছে আরেকটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এটিতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ফুট ওভারব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, তিন কিশোর ব্রিজে দাড়িয়ে টিকটকের ভিডিও তৈরি করছেন। কিছু সময় পর একদল কিশোর-কিশোরীকে দেখা গেল বিভিন্ন স্টাইল দিয়ে ছবি তুলতে।
মেহেদী হাসান ও নয়ন হোসেন নামের ওই দুই শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরাসরি সড়ক পার হতে সময় লাগে মাত্র ১ মিনিট। এই সড়কে গাড়ির তেমন চাপ নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে বেরিয়ে ফুট ওভারব্রিজে উঠে অন্য পাশে যেতে সময় লাগে ৫/৬ মিনিট বা তারও বেশি। সে কারণে ফুট ওভারব্রিজের প্রতি লোকজনের আগ্রহ কম।
পাশের দোকানীরা জানান, ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে সারাদিন খুব অল্প সংখ্যক লোক পারাপার হয়। যারা ওঠে তাদের বেশীরভাগই ছবি তোলা বা ভিডিও করার জন্য যায়। অধিকাংশ সময় এটি ফাঁকা পড়ে থাকে।
বিএল কলেজের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক খুবই ব্যস্ততম। কলেজ গেটের কাছে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। তারপরও লোকজন এর মধ্য দিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপার হয়। সরাসরি সড়ক পার হওয়ার পর জুনায়েদ শেখ ও মাসুম বিল্লাহ বলেন, সরাসরি পার হতে ১ মিনিটও সময় লাগে না। আর ফুট ওভারব্রিজ পর্যন্ত হেটে দিয়ে পার হতে ৭/৮ মিনিট সময় লাগে। সে কারণে ঝুঁকি জেনেও সরাসরি পার হলাম। ফুট ওভারব্রিজটি বিএল কলেজ গেটের ঠিক সোজা করলে এবং সড়কের মাঝে উঁচু ডিভাইডার থাকলে তখন সবাই ফুট ওভারব্রিজই ব্যবহার করতো বলে মন্তব্য করেন তারা।