শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট) ॥ এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদী এখন মরতে বসেছে। দীর্ঘবছর নদীটি খনন না করায় তার নাব্যতা হারিয়ে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।নদীর বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে নদীপথে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধাতার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজার হাজার চাষিরা। কৃষিকাজ ও পণ্য আনা- নেওয়ার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদী।ওপারে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা। বলেশ্বর পাড়ের জমিতে ব্যাপকভাবে ধান,সবজিসহ নানা ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এখানকার পরিবারগুলি কৃষি নির্ভরশীল হওয়ায় সারাবছর কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকেন তারা। এলাকার প্রায় ১০-১২টি গ্রামের কয়েক হাজার চাষি এই নদীর উপর ভরসা করে চাষাবাদ করেন।এতে শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় একদিকে সেচ কাজে চাষিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় চাষি মুকুন্দ বাওয়ালী, আনন্দ বালা, অনিমেশ বাগচীসহ অনেক চাষি ক্ষেভ প্রকাশ করে জানান, শুধু শুনে আসছি বলেশ্বর খনন হবে কিন্তু যুগের পর যুগ কেটে গেল কোন সরকার এটি খননের উদ্যোগ নেয়নি। এখানকার চাষিদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। নদীটি খনন হলে কৃষিকাজ ও নৌ-যোগাযোগে ব্যাপক উন্নয়ন হত। সরকারের কাছে এটি খননের দাবি জানান তারা।
চিতলমারী উপজেলা কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পঙ্কজ রায় জানান, এক সময় বলেশ্বর নদীতে লঞ্চ-ইস্টিমার চলতো। এই নদী থেকে মাছ শিকার করে শত শত জেলারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন নদীতে চর পড়ে গেছে। নদী জুড়ে কচুরিপানার স্তুপ। ঠিকমতো জোয়ার-ভাটা হয়না। বিশেষ করে নদী পাড়ের চাষিদের এখন মরণ দশা। বিষয়টি সমাধানের জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল- মারুফ জানান, কৃষি কাজের জন্য বলেশ্বর নদী খননের প্রয়োজন রয়েছে। এখানকার চাষিরা এই নদীর উপর নির্ভরশীল। সেচ মৌসুমে একদিকে নদীতে পানি থাকেনা অন্যদিকে বর্ষাকালে পানি ঠিকমতো নিস্কাশন না হওয়ার ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় চাষিদের। পাশাপাশি কৃষি পণ্য আনা-নেওয়ার জন্যও নদীটি এখন যাতায়েতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, জেলায় বেশকিছু খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তবে বলেশ্বর খননের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।