স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের উদ্যোগে ও ইইই ক্লাব-এর আয়োজিত ইইই ডে উদ্্যাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে তেল-গ্যাসের বিকল্প উৎসের সন্ধান ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইইই ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সেদিনটিকে সামনে রেখে ইইই ডে উদ্যাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সকাল ১০:০০ টায় আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেকেবিএউ’র উপাচার্য (ডেজিগনেট) প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও শিল্প-অর্থনীতির বিকাশে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণায় আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু শেখার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করবে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইইই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোস্তফা জামান চৌধুরী, কুয়েটের মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. হেলাল-আন-নাহিয়ান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর এস. এম. শামসুল আলম এবং কেকেবিএউ’র রেজিস্ট্রার এস এম আতিয়ার রহমান। তাঁরা দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে তেল-গ্যাসের বিকল্প উৎস ব্যবহার ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেকেবিএউ’র ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ মুঈন উদ্দিন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইইই ডে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক চিন্তার আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইইই বিভাগের প্রভাষক মোঃ মেহেদী হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নবীনবরণ, টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ, প্রোজেক্ট শোকেজ, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, সার্কিট সলভিং কম্পিটিশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রোজেক্ট শোকেজে ১৫টি বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ইইই ক্লাবের বর্ষপূর্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটেন উপাচার্য।টেকনিক্যাল সেশনে বিষয়ভিত্তিকউপস্থাপন করেনগোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এটিএম সাইফুল ইসলাম ও মাদার ট্রেড অটোমেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জামাল হোসেন। এসব ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এবং দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ইইই ডে উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।