কমছে জমির উৎপাদন এবং উর্বরতা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও ফসলের অধিক উৎপাদনের আশায় বিশেষজ্ঞ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই ফসলি জমিতে দিন দিন বাড়ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার। এরফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা হারাচ্ছে, অপরদিকে কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। সেইসাথে ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়। বিশেষজ্ঞ ও কৃষি বিভাগের মতে, যত্রতত্রভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করা না গেলে ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের কৃষি ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে আবহওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের কৃষিতে দেখা দিচ্ছে নানামুখী সংকট। এরফলে ফসলে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরণের রোগবালাই, ঘটছে নতুন নতুন পোকা মাকড় ও কীটপতঙ্গের আবির্ভাব। আর এসব সমস্যা সমাধানে কৃষকরা ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন সার ও কীটনাশকের দোকানে। অধিক উৎপাদনের আশায় কৃষি বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই কৃষকরা ফসলি জমিতে অতিরিক্ত ব্যবহার করছেন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। যার ফলে দিন দিন কমে আসছে জমির উর্বরতা শক্তি, কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন হার। সেইসাথে হুমকীর সম্মুখিন হচ্ছে জীব ও পরিবেশ। এমনটি জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ আশরাফ সিদ্দিকী।
দৌলতপুরের কৃষক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগ বা নিজেদের পরামর্শে সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না। দোকানদারের পরমার্শ অনুযায়ী আমরা জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে থাকি। কৃষি অফিসাররা সময়মত মাঠে আসেনা, আমাদের খোঁজখবরও নেয়না। তাই সার ও কীটনাশকের দোকানদাররা যে পরামর্শ দেয় সে অনুযায়ী জমিতে সার বা কীটনাশক করি।
কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গৌতম কুমার রায়-এর তথ্যমতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের এক গবেষনা জনাগেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুই দশকে দেশের ফসলী জমিতে রাসায়নিক সার কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। তিনি মনে করেন, যত্রতত্রভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের কৃষি ব্যবস্থা।
এদিকে ফসলী জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অধিক ব্যবহারে ঝুকির কথা স্বীকার করে উপজলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালি খাতুন জানান, অধিক মাত্রায় সার প্রয়োগ ও কীটনাশক যত্রতত্রভাবে ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রনে কাজ করছেন তারা। এবিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সংকট নিরসনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বানিজ্যকরণ বন্ধসহ কৃষকদের কাছে পরিমাপযোগ্য ও নিরপেক্ষ ডিজিটাল পরামর্শ পৌছাঁনোর দাবি সংশ্লিদের।