উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো নির্বাচন, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নির্ধারিত নেতৃত্ব
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা কর আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬। রবিবার সকাল ৯টা থেকে নগরীর বয়রাস্থ কর ভবনে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টায় শেষ হয়। দিনভর ভোটার, প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কর ভবন প্রাঙ্গণ ছিল সরগরম ও প্রাণবন্ত।
নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়লাভ করেছেন জিএম গোলাম রসুল, তিনি ২৪৬ টি ভোট পান এবং তার
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: আমিনুর রহমান ২০৪টি ভোট পান।
সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মজিবুর রহমান।
পান, জিএম গোলাম রসুল ভোট পান ২৪৬টি।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিজয়ী মো. মজিবুর রহমান পেয়েছেন ২২২ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ মো. রোকনুজ্জামান পেয়েছেন ২১৯ ভোট। মাত্র তিন ভোটের ব্যবধানে নির্ধারিত হয় সম্পাদক পদের ফলাফল, যা নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে।
অন্যদিকে যুগ্ম সম্পাদক পদে এস এম জি নেওয়াজ ২৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনিরুল ইসলাম বাবু পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।
পাঠাগার সম্পাদক পদে শরিফুল ইসলাম ২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মেহেদী হাসান পেয়েছেন ১৮৮ ভোট।
ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে জি এম সোহাগ ২৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আতাউর রহমান রাজীব পেয়েছেন ১৯৫ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম শাহিনুর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মহাসিন কবির দুলু পেয়েছেন ১৮৯ ভোট।
সহ-সভাপতি দুটি পদে মো. সাঈদ আহমেদ ২২০, মো. নজরুল ইসলাম ২৮৬, মো. আমির হামজা ১৭৩ এবং মো. নজরুল ইসলাম খান ১৫৯।
কার্যকরী সদস্য ৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে এম হারুন-অর-রশিদ পেয়েছেন ২১৮ ভোট, সুলতান আহমেদ টুলু ২১৫, কাজী মো. মাসুদুল হক ৯৩, সমীর রঞ্জন মৃধা ১১৪, আতিকুর রহমান ১৪৭, রোকেয়া পারভীন ২২৭, মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার ২৬০, খান মনিরুজ্জামান ২৮৬, এ বি এম মোস্তফা জামান ২৭৩, গণেশ চন্দ্র সরকার ২০৩, মো. আওরঙ্গজেব ২৯০ এবং মো. আ. গফফার পেয়েছেন ১২৮ ভোট।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ আউয়াল রাজ। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট সেলিম আল আজাদ ও শেখ আবুল কাশেম।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। আপত্তি নিষ্পত্তির পর ১৯ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, আপিল ও প্রত্যাহার শেষে ৫ মে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভোটাররা জানান, পুরো নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যেও ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ। নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সমিতির উন্নয়ন, সদস্যদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং আধুনিক ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।