এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় দেড় কোটি টাকার সবজি ফসল যাচ্ছে প্রতিনিয়ত দেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন শহরে। এ ভালো ফলনে গোটা গ্রাম জুড়ে আনন্দের উল্লাস, বাজিমাত গোটা ইউনিয়ন। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে বাজারের চাহিদা বৃদ্ধি, দামও পাচ্ছেন ভালো। প্রতিমন সবজিতে বেড়েছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। করলায় বেড়েছে মন প্রতি ১ হাজার টাকা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার সবজি নৌপথে ট্রলার যোগে, সড়ক পথে ট্রাক যোগে প্রতিনিয়ত যাচ্ছেন দেশের রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বটিয়াঘাটা, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর সহ বিভিন্ন শহরে। মৌসুমের শুরুতেই চাহিদা বৃদ্ধি থাকার কারনে ফসলি মাঠ থেকে বেপারীরা এ সবজি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। শসা, জিঙ্গা, করলা, চাল কুমরা, মিষ্টি কুমরা সহ বিভিন্ন সবজি এ ইউনিয়নের হরতকী তলা, গুয়াতলা, পিসি বারইখালী থেকে প্রতিদিন কৃষক তাদের উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলা শহরে রপ্তানি করছেন। তাদের উৎপাদিত বাম্পার ফলনে গোটা ইউনিয়ন এখন বাজিমাত। সবজি মৌসুমে প্রতিটি কৃষকের যেন দম ফেলার সময় নেই, দিনের বেলায় ফসলি মাঠে কাটছেন সবজি, বেপারীরা বিক্রিত সবজি তুলছেন নৌকা,ট্রাক ও ট্রলারে। কথা হয় গ্রয়াতলা গ্রামের রুহুল আমিন জোমাদ্দার, ২০ বিঘা জমিতে এবারে সবজি উৎপাদন করে বাম্পার ফলন পেয়েছে।
১০ বছর ধরে তিনি এ সবজি চাষ করে বছরে ঘরে তুলেন ব্যায় মিটিয়ে ১০/১২ লাখ টাকা। এ বছরে সবজির চাহিদা বাজারে দ্বিগুন ও ভালো দাম থাকায় আশা করছেন ১৬/১৭ লাখ টাকা ঘরে তুলতে পারবেন। তার ফসলি মাঠে প্রতিনিয়ত ৪ জন শ্রামিক দৈনিক ৫শ’ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। সার কিটনাশক শ্রমিক মজুরি সহ সকল ব্যায় ৩/৪ লাখ টাকা। তার পরেও ১০/১২ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এ কৃষক আরো বলেন, গত বছর যেখানে জিঙ্গা মন বিক্রি হয়েছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার এ বছরে তা বেড়ে ১৬শ” টাকায় মন বিক্রি হচ্ছে। শসা ১২শ’ টাকা, রেখা ১ হাজার, করলা ১৮শ’ টাকা দেশি জাতের চালকুমরা চাহিদা বেশি প্রতি পিচ ৪০ টাকা দরে পাইকারী, হাইব্রিড চালকুমরা ২০ টাকায় কিনছেন ব্যাপারীরা। তবে গত বছরের চেয়ে চাহিদা যে রকম বেশি দামও দ্বিগুন বাজার থাকায় কৃষকের ফসল উৎপাদনে আগ্রহ আরো আগামীতে বৃদ্ধি হবে। এ গ্রামেই ১ হাজার কৃষক শত শত হেক্টর জমিতে এ সবজি উৎপাদন করেছে, পাশ্ববর্তী হরতকীতলা গ্রামে আরো বেশি কৃষক সবজি ফলিয়েছে। রাত যত গভীর হবে কুদঘাটা বাজারে খালের মধ্যে এরকম দৈনিক শতাধিক ট্রলারে সবজি বোজাই করে বেপারীরা নিয়ে যাচ্ছেন।
এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সবজি মৌসুমে এ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে কৃষক বিভিন্ন প্রজাতের সবজি উৎপাদন করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে। যা এলাকার চাহিদা পূরন করে তিন মাসের এ মৌসুমে দেড় কোটি টাকার সবজি রপ্তানি করছেন এঅঞ্চলের কৃষক। কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে ইতি মধ্যে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষনের কারনে নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন কৃষকেরা বলে এ কর্মকর্তা জানান।