বটিয়াঘাটা অফিস : বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের শম্ভুনগর গ্রামে সকালে রান্না করা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন একই এলাকার চারটি পরিবারের ২০ সদস্য । এদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেলে হস্তান্তর করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থরা হলো, সনজিৎ মন্ডল (৪০) কুমারেশ মন্ডল, নারায়ণ মন্ডল, ও সুকুমার মন্ডল, মধুরা রানী মন্ডল (৬৫), লতিকা মন্ডল (৬০), মধু রানী মন্ডল (৬৫), সাথী মন্ডল (৩৫), রিয়া মন্ডল (১৯), রিয়া মন্ডল (১৪), আঁখি মন্ডল (৭), তুয়া মন্ডল (৫), রুদ্র মন্ডল (১৭), ছন্দা মন্ডল (৩০), পাখি মন্ডল (৩) চম্পা সহ ২২ জন সদস্য সকালের খাবার খেয়ে জ্ঞান হারায়। এদের মধ্যে ৫ জন শিশু রয়েছে। বহিরাগত সার্ভেয়ার বিশ্বজিৎ মন্ডল ও মিলন বিশ্বাস রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের একটি বিড়াল বিষাক্ত খাবার খেয়ে মারা গেছে বলে জানা যায়। এরা সবাই সহ সহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে সকালের খাবার খাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ সনজিৎ মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা সবাই হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। সোমবার রাতে কোন এক সময় কে বা কারা রান্নাঘরে প্রবেশ করে লবন ও হলুদের মধ্যে বিষাক্ত বা চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। পরদিন সকালে সেই লবন ও হলুদ দিয়ে তরকারি ও অন্যান্য খাবার রান্না করা হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পরিবারের সদস্যরা একে একে অস্বস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যায়। ঘটনাটি দ্রুত এলাকাজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী বাড়িতে ভিড় জমায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অসুস্থদের উদ্ধার করে জরুরী ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। জানা যায়, তাদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজন। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ, মিডিয়া কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্ব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।