/ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আগুন ২ ঘন্টা ২০ মিনিট পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আগুন ২ ঘন্টা ২০ মিনিট পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গতরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘন্টা ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ক্রেন দিয়ে রোগী ও স্বজনদের নামিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বলে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নীচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কি কারণে লেগেছে তা জানা জায়নি। জেনারেটর ছাড়াও সেখানে ওই হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন রয়েছে। সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।

এদিকে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি দেখা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগীর স্বজনদেরকে জানালার গ্লাস ভেঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দেখা যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সিড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত কাভার করতে পারে। যদিও হাসপাতালটি ১৬ তলা বিশিষ্ট। এজন্য রোগী ও স্বজনদের বেশ আতংকগ্রস্থ দেখা যায়।

আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ধোঁয়ার কারনে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রাত হওয়ায় আশপাশের কোন অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয়রাও কাজ করেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা: রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত: বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু মোবাইলে খোঁজখবর রাখছেন তিনি। কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মো: মাসুদ সরদার জানান, রাত নয়টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা ও জনগনের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণ তথা আগুন নেভানো সম্ভব হয়। হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপন সাপেক্ষে জানানো যাবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র মিডিয়া সেল জানায়, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আগুনের পর উদ্ধার অভিযানে সহায়তা দিয়েছে বিজিবি।

আগুনের খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।