শেখ মনিরুজ্জামান, ফুলতলা (খুলনা) : টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে খুলনার ফুলতলা উপজেলা ও বিলডাকাতিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে| গত ১০ জুলাইয়ের পর থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় মাছের ঘের, আউশের ক্ষেত ও সবজির জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে| এতে একদিকে যেমন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে আমন মৌসুম নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা|
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ২ হাজার ১৪০ হেক্টর এলাকায় থাকা ৪ হাজার ৫৯০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে| অনেক ঘের মালিক নেট দিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন| উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি ঘের সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে| আরও অনেক ঘের পানির নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে| বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে| এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে|
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, জলাবদ্ধতার কারণে ২৯ হেক্টর আউশ আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে| এ ছাড়া ৬০ দশমিক ৭০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা ˆতরির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পানি বাড়ায় কৃষকেরা এখনো বীজতলা প্রস্তুতের কাজ শুরু করতে পারেননি| বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে আউশের জমি ও আমনের বীজতলা উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়বে|
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার উঁচু এলাকায় ১২৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির আবাদ হয়েছিল| এর মধ্যে ৮৫ হেক্টরের ফসল সংগ্রহ করা গেলেও অবশিষ্ট ৪০ হেক্টরের সবজি সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে| এতে কৃষকদের লোকসানের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে|
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিলডাকাতিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে| এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, ঋণের বোঝাও ভারী হচ্ছে| দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের|