যশোর ব্যুরোঃ যশোরের শার্শা উপজেলায় গত দুই দিনে সংঘবদ্ধ কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ও গতকাল সোমবার সকালে একদল কুকুর আমড়াখালীর রেললাইন পার হয়ে গ্রামে ঢুকে আচমকা মানুষের ওপর হামলা চালায়। প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরগুলো ২০ জনকে কামড়ে আহত করে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আরও ২০ থেকে ৩০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে আমড়াখালী গ্রামের সোহান হোসেন (২৯), সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মোরশেদ আলী (৫০), মহিউদ্দিন (৫৫), কবির হোসেন (৩৫), আছিয়া খাতুন (৩৫), বাছিরুন নেছা (৪৫), কাগমারী গ্রামের আনোয়ারা খাতুন (৪৫), শার্শার আব্দুল বাকী (১৮) ও সাইমুন (২৫) রয়েছেন।
কুকুরের আতঙ্কে অনেকে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌর প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসী।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, কুকুরের কামড় অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে জলাতঙ্ক হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। পোষা কুকুরকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমানে কুকুরের প্রজননকাল হওয়ায় অবাঞ্ছিত কুকুর কামড়ালে অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সরকারি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। কুকুরে কামড়ালে দ্রুত ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিনের ডোজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।