স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে অসংগতি ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে খুলনার তেরখাদা উপজেলার উত্তর খুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম।
গত ২৭ আগস্ট জারি করা ওই নোটিশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ২০০৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় তৌহিদুল ইসলাম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি, এইচএসসি এবং বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সনদ দাখিল করেন। চাকরিতে যোগদানের পর তাঁর একাডেমিক রেকর্ড যাচাই করতে গিয়ে সনদপত্রে নানা অসংগতি পাওয়া যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ অনুযায়ী, তৌহিদুল ইসলাম ২০০০ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি অর্জনের দাবি করে সনদ দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে ওই সনদের সত্যতা যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর দাখিল করা সনদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নোটিশে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের বৈধতা নিয়েও সরকারি সিদ্ধান্ত ও আদালতের রায়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি নথিতেও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নোটিশে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন সনদ ও আবেদনে দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পাসের সময় এবং এর আগে বিএসসি/ডিগ্রি পাসের দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তথ্যের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে চাকরি লাভ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে তৌহিদুল ইসলামকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না, তার জবাব ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, সেটিও লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে একটি মীমাংসিত বিষয়। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর আমি ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। যেটি উচ্চ আদালত থেকে আমার পক্ষে রায় হওয়ার পর আমি চাকরীতে যোগদান করে বেতনও তুলি। কিন্তু সেই একই বিষয়ে আবারো অভিযোগ এনে চিঠি দেওয়া আইনগত সঠিক নয়। সোমবার(৩১ আগষ্ট) আমি নোটিশটি হাতে পেয়েছি। যা নিয়ে আইনজীবীর সাথে কথা বলার জন্য এসেছি।”