/ বাবার স্মৃতিকে শিক্ষার আলোয় অমর করলেন দুই ছেলে, স্কুলে গড়ে উঠেছে মেমরি গ্যালারি ও লাইব্রেরি

বাবার স্মৃতিকে শিক্ষার আলোয় অমর করলেন দুই ছেলে, স্কুলে গড়ে উঠেছে মেমরি গ্যালারি ও লাইব্রেরি

প্রয়াত শিক্ষকের স্মৃতিতে বই উপহার, জ্ঞানচর্চার নতুন ঠিকানা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা


কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : বাবার স্মৃতিকে শুধু হৃদয়ে ধারণ করে নয়, নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার মাঝেও বাঁচিয়ে রাখতে ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন দুই ভাই। প্রাক্তন শিক্ষক পিতা রনজিত কুমার ঘোষের স্মরণে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের পাঁচকাহুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘মেমরি গ্যালারি ও লাইব্রেরি’। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে বই ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ উপহার দিয়েছেন তাঁর দুই পুত্র রতন কুমার ঘোষ ও মানিক কুমার ঘোষ।


রনজিত কুমার ঘোষ দীর্ঘদিন নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে পাঁচকাহুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর আদর্শ ও অবদান আজও সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।


বাবার সেই স্মৃতি ও আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তাঁর দুই ছেলে—শিক্ষক রতন কুমার ঘোষ এবং শিক্ষক ও সাংবাদিক মানিক কুমার ঘোষ—এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।


‘মেমরি গ্যালারি’তে প্রয়াত শিক্ষক রনজিত কুমার ঘোষের কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি, ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে রাখা হবে বিভিন্ন ধরনের বই।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইব্রেরির জন্য বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন রতন কুমার ঘোষ ও মানিক কুমার ঘোষ।


বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব উপহার গ্রহণ করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এম. এ. মজিদ, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসেম আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


অত্র স্কুলের সভাপতি আব্দুল মুজিদ বলেন, একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন তাঁর শিক্ষার্থীদের মাঝে বেঁচে থাকা। রনজিত কুমার ঘোষের স্মরণে গড়ে ওঠা ‘মেমরি গ্যালারি ও লাইব্রেরি’ শুধু তাঁর স্মৃতিকেই সংরক্ষণ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসেম আলী বলেন, একজন প্রাক্তন শিক্ষকের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এই লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং রনজিত কুমার ঘোষের স্মৃতি দীর্ঘদিন সংরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে।


স্থানীয়রা বলছেন, বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এমন উদ্যোগ ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয়। পরিবারের একজন সদস্যের স্মৃতিকে শুধু ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার জন্য উৎসর্গ করার এই প্রয়াস সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


একজন শিক্ষকের স্মৃতি, দুই সন্তানের ভালোবাসা আর শত শত শিক্ষার্থীর জ্ঞানচর্চা—‘মেমরি গ্যালারি ও লাইব্রেরি’ হয়ে উঠতে পারে প্রাক্তন শিক্ষক রনজিত কুমার ঘোষের স্মৃতির এক স্থায়ী ও আলোকিত ঠিকানা।