/ জীর্ণ ভবন, নামমাত্র সম্মানি, বেহাল ডাক বিভাগ

জীর্ণ ভবন, নামমাত্র সম্মানি, বেহাল ডাক বিভাগ

রিপন হোসেন সাজু, নেহালপুর (মনিরামপুর) : একসময় মানুষের হাতে হাতে ঘুরত চিঠি, মানি অর্ডার আর ডাকটিকিট। দূর-দূরান্তের স্বজনের খবর কিংবা জরুরি কাগজপত্র পৌঁছানোর অন্যতম ভরসা ছিল ডাক বিভাগ। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বেসরকারি কুরিয়ার সেবার বিস্তারে সেই ডাকঘরের ব্যস্ততা কমেছে। এরই মধ্যে জরাজীর্ণ ভবন, নিম্নমানের সেবা ও কর্মচারীদের অপ্রতুল সম্মানির কারণে যশোরের মনিরামপুরের শাখা পোস্ট অফিসগুলোও হারাচ্ছে মানুষের আস্থা।

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ শাখা পোস্ট অফিসগুলোতেই চলছে কার্যক্রম। মনিরামপুর উপজেলার ৪২টি শাখা পোস্ট অফিসের অধিকাংশ ভবনের জীর্ণ-শীর্ণ ও ভগ্নদশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে। কোনো অফিসের ছাদ দিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, আবার কোনো ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং খসে পড়ছে পলেস্তারা।


স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে নেওয়া হলেও পোস্ট অফিসে কর্মরত কর্মচারীরা এখনো সেই আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচি পালন করেও তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ কর্মরত কর্মচারীদের।


বাংলাদেশ গ্রামীণ ডাক কর্মচারী পরিষদ (রেজি. নং-২০৩১) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলার ২৪৯টি শাখা পোস্ট অফিসে ৫৫৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটানা দায়িত্ব পালন করে পোস্টমাস্টার মাসে ৪ হাজার ৪৬৬ টাকা, পিওন ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং রানার ৪ হাজার ১৭৭ টাকা সম্মানি পান। এই সামান্য অর্থ দিয়ে পরিবার-পরিজনের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।


তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরও বছরে কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের জন্য ৫০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়। অথচ কোনো কর্মচারী অসুস্থ বা মারা গেলে সহযোগিতার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও অর্থ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাঁর।

ইকবাল হোসেন বলেন, এক বুক আশা নিয়ে অনেকে এ পেশায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে অনেকেই চাকরি ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। আর যারা ভালো কিছুর আশায় বছরের পর বছর চাকরি আঁকড়ে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই জীবন সায়াহ্নে রোগাক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত বছর এবং চলতি বছরের ৬ জুলাই থেকে টানা ১৩ দিন ধর্মঘট ও কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ কর্মচারীদের।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা জানান, এক সময় চিঠি, টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের ওপর মানুষের নির্ভরতা ছিল। বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশ ও বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের দ্রুত সেবার কারণে ডাক বিভাগের ওপর মানুষের নির্ভরতা অনেক কমেছে। এর সঙ্গে সেবার মানের অবনতিও ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. হাসানুজ্জামান ও পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব, খুলনা) কবির আহমেদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া না পাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত খবর

আরও খবর