বাবুল দাস, শরণখোলাঃ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন আশায় গভীর সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইলিশ শিকারিরা। তবে সাগরে যেতেই বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র লোডশেডিংয়ের দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন উপকূলের হাজারো জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী। উত্তাল সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বরফের সংকটে ধরা মাছ সংরক্ষণ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে ভরা মৌসুমেই কোটি কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। প্রবল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ ফিশিং ট্রলার মাছ ধরা বন্ধ রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকার শত শত ট্রলার মহিপুর, নিদ্রাসখিনা ও পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভেদাখালী খালসহ বিভিন্ন স্থানে নোঙর করে আছে।
শরণখোলার মেঘনা বরফমিলের ম্যানেজার মিহির কুমার বলেন, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে এক চালান বরফ উৎপাদনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে দুই দিনেও পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। এতে ইলিশ ব্যবসায়ী ও জেলেদের ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বরফমিলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার দেলোয়ার ফরাজি, কবির হাওলাদার ও মজিবর তালুকদার বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রতিটি ট্রলারে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাঝিমাল্লাদের সাগরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাঁরা জাল ফেলতে পারছেন না। অন্যদিকে বরফের সংকটে মাছ সংরক্ষণের নিশ্চয়তাও নেই। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফিশিং ট্রলার মালিক মো. আবুল হোসেন বলেন, একদিকে সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, অন্যদিকে ঘাটে বরফের সংকট। দুই সমস্যায় জেলেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ শরিফুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার ভেদাখালী খালে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেওয়া ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা যাতে বনাঞ্চলের কোনো ক্ষতি না করে, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে।
জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ইলিশ মৌসুমে পুরো মৎস্য খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।