/ এক নদীর উপর আট সেতু

এক নদীর উপর আট সেতু

রামপালে নদী পারাপারে ভোগান্তি পোহাচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ

নিজস্বম সংবাদদাতা,ফয়লাহাট(রামপাল)বাগেরহাট॥
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় এক নদীর উপর আটটি সেতু পার হয়ে চার ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জেলা- উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন| সেতু গুলোর বেশির ভাগই কাঠের হওয়ায় বছরে তিন থেকে চারবার মেরামত করতে হয়| বর্ষা মৌসুম এলে সাধারন মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়|


জানা গেছে উপজেলার উজলকুড়, বাইনতলা, রামপাল সদর ও বাঁশতলী ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে দাউদ খালি নদী| নদীটি মোংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেল থেকে উৎপত্তি হয়ে বাগেরহাটের চৌ- মোহনায় মিশেছে| নাব্যতা সংকটের মুখে পড়ে আনুমানিক ২০০৮ সালে এ নদীতে সব ধরনের নৌ- চলাচল বন্ধ হয়ে যায়| এতে ওই চার ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষের পারাপারে দুর্ভোগ নেমে আসে|
এরপর স্থানীয় জন প্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক সহ সাধারন মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নদী পারাপারের সুবিধার্থে এ নদীর সকুরহাট, সগুনা, ফয়লাহাট, সিকি, রামপাল সদর খেয়াঘাটে খেয়া নৌকা চালু করেন| সাধারন মানুষ ওই খেয়া নৌকায় ওই সব ঘাট পার হয়ে জেলা-উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে শুরু করেন| সাধারন মানুষের নৌকায় পারাপার হতে অনেক সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো| এমন অবস্থার অবসান ঘটাতে নৌকার পরিবর্তে দ্রুত পারাপারের জন্য স্থানীয়দের সমন্নয়ে কাঠ ও বাশের সেতু নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়|


এক পর্যায় স্থানীয় মানুষ নিজেদের অর্থায়নে ওই সব খেয়া ঘাটে সেতু নির্মান করেন| এরপর সাধারন মানুষ আজ অবধি মানুষ ভ্যান, সাইকেল, মোটর সাইকেল নিয়ে ওই সব সেতু পার হয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে| দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় পদ্ধতিতে নির্মান করা ওই সব কাঠের সেতু মেরামতে বিগত সরকারের শাসনামলে সরকারি অর্থও বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল| স্থানীয় মানুষ বলছে বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানের অর্থে বছরে তিন থেকে চারবার এসব সেতু মেরামত করতে হয়|


এদিকে এ নদীর সিকি খেয়াঘাট, ঝনঝনিয়া, শ্রীফলতলা ও রামপাল সদর বড়দিয়া খেয়াঘাটে সরকারি অর্থায়নে স্থায়ী সেত ুনির্মানের কাজ চলমান রয়েছে| সাধারন মানুষ বলছে এসব সেতুর নির্মান কাজ শেষ হলে তাদের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘব হবে| এক সময় এসব ঘাট পারাপারের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে খেয়া নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটতো| ঝড়-তুফান এলে নৌকা পারাপার বন্ধ রাখতে হতো|
অপরদিকে সকুরহাট, সগুনা ও ফয়লাহাটে এখনও সাধারন মানুষ জোড়া তালির কাঠের সেতু পার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছে| বছরে তিন থেকে চারবার এসব সেতু মেরামত না করলে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়| বারবার সেতু মেরামতের জন্য সাধারন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে হয়| বারবার আর্থিক সহায়তা চাইতে গেলে অনেকে বিরক্ত বোধ করেন| স্থানীয় লোকজন বাধ্য হয়ে সরকারি সহায়তা ছাড়া নিজেরা উদ্যেগ নিয়ে মেরামত কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন|


এবারের বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এসব কাঠের সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে যায়| এতে পারাপারে দুর্ভোগে পড়ে সাধারন মানুষ| এমন অবস্থায় ভুক্তভোগি লোক জন নদীর এ তিন স্থানে পৃথক তিনটি স্থায়ী সেতু নির্মানের দাবী করেছেন|এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক জনজন প্রতিনিধি বলেন সরকারি ভাবে স্থায়ী সেতু নির্মান না করলে এমন জনদুর্ভোগ সহ সালাঘ বহবে না|