জ্বালানি সংকট চরমে
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ৩টি তেল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ত ৩টি তেল পাম্পে বা ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন তেল সরবরাহ করা হয় না। পর্যায়ক্রমে তেল সরবারহ করা হয়ে থাকে। একটিতে দেওয়া তেল হলে অপর দু’টি বন্ধ থাকে। আর যে পাম্পে তেল দেওয়া হয় সেই তেল পাম্পে ভোররাত বা গভীর রাত থেকে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। তারপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল সংগ্রহ করতে পারেন না অনেকেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে কর্মক্ষেত্রেও সময়মত উপস্থিত হতে তাদের বিলম্ব হচ্ছে বলে জানাগেছে।
গতকাল উপজেলার তারাগুনিয়া সাগর ফিলিং ষ্টেশনে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে সাগর ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে দুই পাশে প্রায় ১কি. মি. দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে। আবার লাইনে দাঁড়িয়েও সময়ের অভাবে তেল না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে দেখা গেছে। আবার অনেকে প্রখর রৌদ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। দিনশেষে কেউ হাসিমুখে ফিরেছে আবার কেউ তেল না পেয়ে মনোকষ্ট নিয়ে ফিরেছেন।
দৌলতপুর কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কলেজ টাইম হয়ে যাওয়ায় তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। এমন অভিযোগ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের।
উপজেলার ৩টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশনে গতকাল তেল সরবরাহ করা হলেও আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্ষুব্ধ জনতার রোসানল থেকে বাঁচতে স্টেশন মালিকরা ফিলিং স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদেরও হিমশিম খেতে হয়। শত সহস্র মোটরসাইকেল চালকের ভিড় সামাল দিতে তাদেরও নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন।