নিজস্ব সংবাদদাতা,দাকোপ (খুলনা) : অবশেষে ২৬ ঘন্টা পর দাকোপ-মোংলার পশুর নদীতে ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ট্রলার মাঝি হোসেন মোড়ল (৪৫) এর ভাসমান লাশ উদ্ধার। বাজুয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন পশুর নদীতে হোসেন মোড়লের ভাসমান লাশ দেখতে সহকর্মী ট্রলার চালকরা উদ্ধার করেছেন।গতকাল (১মে) শুক্রবার সকালে হোসেন মোড়লের লাশ দাকোপ উপজেলা সদর চালনা পৌরসভার গোড়কাঠি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসলে তখন নিকট আত্নীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও নিহতের সহকর্মী ট্রলার চালকদের কান্নায় গোটা বাড়ি ভারী হয়ে উঠে।
পশুর নদীতে পড়ে মৃত্যুবরণ করা হোসেন মোড়লের বড় ভাই হাসান মোড়ল জানান, আমার ছোট ভাই হোসেন মোড়ল সে চালনা-মোংলা-বাজুয়া নৌ-রুটের একজন নিয়মিত ট্রলার চালক। সে এ নৌ-রুটে যাত্রী সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাতে তার ট্রলার যোগে বিভিন্ন স্থানে বাগদা চিংড়ির রেণু পোনাসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহণ করে আসছিলো।এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে বুধবার আমার ছোট ভাই হোসেন মোড়ল সে কিছুটা অসুস্থ্য হওয়ার কারণে ঘটনার দিন রাতে সঙ্গীয় তার স্ত্রী মাহফুজা বেগমকে সাথে নেয়। হোসেন মোড়ল রাত আনুঃ ২টায় দাকোপ উপজেলা সদর চালনা লঞ্চঘাট পল্টুনের ওপর থেকে প্রায় অর্ধশত বক্সের বাগদা চিংড়ি (রেণু) পোনা তার ট্রলারে উঠায় এবং মোংলার ১নং জেটি ঘাটের উদ্দেশ্য তার ট্রলারটি রওনা হয়ে ভোর আনুমানিক ৫টায় মোংলা জেটি ঘাটে পৌঁছায়।
উক্ত ঘাটের শ্রমিকরা তখন ট্রলারে থেকে বাগদা রেণৃুর পোনার বক্স গুলো জেটি ঘাটে নামিয়ে নেন। জেটি ঘাটে শ্রমিকদের মাধ্যমে নামানো বাগদা চিংড়ির রেণু পোনার বক্স গুলো ঠিকমত আছে কিনা তা দেখার জন্য আমার ভাই হোসেন মোড়ল ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০মিনিটে জেটি ঘাটে নামার সময় সে পশুর নদীতে পড়ে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা তার স্ত্রী মাহফুজা বেগমের ডাকচিৎকারে ঘাটে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা ছুটে আসতে না আসতেই হোসেন মোড়ল পশুর নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় মোংলায় অবস্থারত বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও ফাইয়ার সার্ভিসের চৌকিস দলের সদস্য ও ডুবুরিরা তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে পশুর নদীর বিভিন্ন স্থানে হোসেন মোড়লের সন্ধ্যান পেতে তাদের কর্মতৎপরতা শুরু করে ছিলেন প্রায় মধ্যেরাত পর্যন্ত। তবে তখন কেউই আমার ভাইয়ের সন্ধ্যান পাননি।
২৬ ঘন্টাপর আজ (১৫ মে) শুক্রবার সকাল আনুঃ ৭টায় দাকোপ উপজেলার বাজুয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন পশুর নদীতে হোসেন মোড়লের ভাসমান লাশ দেখতে পায় চালনা-টু-মোংলার নৌ রুটের অপর সহকর্মী ট্রলার চালক আবু জাফর। তখন সে অন্যান্য সহকর্মীকে ডেকে নিয়ে হোসেন মোড়লের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে হোসেন মোড়লের লাশ দেখে তার আত্নীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও নিহতের সহকর্মী ট্রলার চালকদের কান্নায় গোটা বাড়ি ভারী হয়ে উঠে। গতকাল ১৫ মে শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলা সদর চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গনে হোসেন মোড়লের নামাজে জানাযা শেষে তাকে গোড়কাঠি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। হোসেন মোড়ল দাকোপ উপজেলা সদর চালনা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড গোড়কাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃতঃ ইউসুফ মোড়লের ছোট ছেলে। হোসেন মোড়ল মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানসহ অনেক গুনগ্রাহী রেখে যান। হোসেন মোড়লের এ মৃত্যুতে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।