স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগজুড়ে হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮২ জন হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সময়ে কুষ্টিয়া জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৪৫ জনে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৮২ জন সন্দেহভাজন রোগীকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮১ জন। তবে এই সময়ে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়নি এবং নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। তবুও কুষ্টিয়ায় একজন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু স্বাস্থ্য বিভাগকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কুষ্টিয়ায়। সেখানে গত প্রায় দুই মাসে ১ হাজার ২২০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ১০০ জন। কুষ্টিয়াতেই সর্বোচ্চ ১২ জন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সেখানে মাত্র ৩ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই।
সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা। সেখানে ৬০৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৯৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। যশোরে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জন, যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সেখানে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
মাগুরা জেলায় ৪৫৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। জেলায় ১৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা জেলায় ৪০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৩৬১ জন বাড়ি ফিরেছেন। খুলনায় সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ৪ এবং নিশ্চিত রোগী ১৯ জন।
এছাড়া ঝিনাইদহে ২১৮ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। মেহেরপুরে ২৬৬ জন আক্রান্তের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটে ১৫২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন নিশ্চিত রোগী। নড়াইলে ১৭২ জনের মধ্যে ১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। সাতক্ষীরায় ১৩৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩ জন নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে। চুয়াডাঙ্গায় ১২১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগজুড়ে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৯৪৪ জন। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১৩ জন হলেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। তবে ২০ জন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে অনীহা, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। অনেক পরিবার প্রাথমিক লক্ষণকে সাধারণ জ্বর বা ভাইরাসজনিত সমস্যা মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করছে। ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।