/ খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন হামরোগী ৯৭, ঝুঁকিতে কুষ্টিয়া-যশোর

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন হামরোগী ৯৭, ঝুঁকিতে কুষ্টিয়া-যশোর

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় নতুন করে আরও ৯৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২৪ জন রোগী। তবে স্বস্তির খবর হলো, গত একদিনে বিভাগে হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।


খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবের পর এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩ হাজার ৬৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৮৬৩ জন। এ সময়ে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও তারা সন্দেহভাজন তালিকায় ছিলেন। এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ১১৩ জন হাম রোগীর মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।


স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। জেলাটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৭ জন। কুষ্টিয়াতেই সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা সেখানে ৩ জন।


সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা। সেখানে মোট ৫৯৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১২ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৮৯ জন। বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৪ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে যশোরেই।
খুলনা জেলায় মোট ৩৯৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৪৬ জন। জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনায় ১৯ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে, যা বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।


মাগুরা জেলায় ৪৪৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩০৭ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। জেলায় ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সংখ্যক নিশ্চিত রোগী রয়েছে ঝিনাইদহ জেলাতেও। সেখানে মোট ২১৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৬৫ জন। ঝিনাইদহে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাটে মোট ১৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৭৮ জন সুস্থ হয়েছেন। সেখানে ১২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। নড়াইলে মোট ১৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। সেখানে ১০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গায় মোট ১১০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভর্তি হয়েছেন ১০৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১০৯ জন। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেহেরপুরে ২৫৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, ভর্তি হয়েছেন ১৮৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৬১ জন। জেলাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।


সাতক্ষীরায় মোট ১৩২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভর্তি হয়েছেন ১৩২ জন এবং সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১২৯ জন। সেখানে ৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়া হলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এ রোগ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।