দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি
রিপন হোসেন সাজু, নেহালপুর (মনিরামপুর) : যশোরের মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের দেবিদাসপুর ও পাতন গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির রেলিং, পাটাতন ও বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের মানুষের নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, হরিহর নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ১৩ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রিজের উত্তর পাশে দেবিদাসপুর এবং দক্ষিণে পাতন ও জুড়ানপুর গ্রাম। নদীর দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদ্রাসা। দেবিদাসপুর ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজ পার হয়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্রিজটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এর রেলিং, স্প্যান ও পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একপর্যায়ে ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এতদিন এটি ব্যবহার করে আসছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সোমবার সদর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্রিজটি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এখন নদী পার হতে পূর্ব প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে অন্য একটি ব্রিজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম, হাফিজুর রহমান, নাজমা খাতুন ও শারমিন খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটি ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়ায় ব্রিজের আশপাশের মাটি ও সংযোগ সড়কের সমস্যাও প্রকট হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাঁরা বলেন, দেবিদাসপুর ও পাতন গ্রামের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্রিজটির গুরুত্ব অনেক। দ্রুত এটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে স্থানীয়দের এই পথ ব্যবহার করতে হয়। জীর্ণ ব্রিজটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজ হবে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, ‘এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার থেকে ব্রিজ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, ব্রিজটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী বলেন, পরিদর্শন শেষে দ্রুত ৪০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিজটি পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।