/ রামপালে নদী-খাল দখলকারিদের তালিকা এখনও হয়নি

রামপালে নদী-খাল দখলকারিদের তালিকা এখনও হয়নি

উচ্ছেদ অভিযানের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট॥ রামপাল উপজেলায় নদী-খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কোনো উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দিন দিন অবৈধ দখলদারদের পেটে যাচ্ছে নদী-খাল। সারা দেশের নদী—খালের অবৈধ দখলদারদের হালনাগাত তালিকা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হলেও রামপাল উপজেলায় এ তালিকার কাজই শুরু হয়নি।


জানা গেছে, সারা দেশে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নদী-খাল অবৈধ দখলদারদের তালিকা হালনাগাদকরনে যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে অবৈধ দখলদারদের চুড়ান্ত তালিকা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশেষ কর্মসুচীর আওতায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত বিগত ১৯৮০ সালে এ উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি খালে আড়াআড়ি ভাবে বাঁধ ও আমনের জমিতে বেড়িবাঁধ দিয়ে আমনের পরিবর্তে লবন পানিতে বানিজ্যিক ভাবে চিংড়ী উৎপাদন শুরু হয়। এরই প্রভাবে ধীরে ধীরে এ উপজেলার সব নদী-খালে নাব্যতা হ্রাস পেতে থাকে।এক সময় পলি জমে নদী-খাল ভরাট হয়ে গেলে আনুমানিক ২০০৮ সালে মোংলা—ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ—চ্যানেলসহ এ উপজেলার সকল নদী — খালেসব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভরাট হয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী-খাল এক শ্রেনির মানুষের দখলে চলে যায়। দখল হওয়া নদীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যৌখালি নদী। এ নদীটি বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৪/২ পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত হলেও এ নদী এখন অবৈধ দখলদারদের আওতায়। এ নদীর দুই তীরে বসবাস করা মানুষের দখল দূষণে নদীটি এখন একটি শীর্ণকায় খালের মতো হয়ে গেছে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড দখলদারদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে এমন নজির নেই।
বিগত সরকারের শাসনামলে ২০১০ সালে মোংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ — চ্যানেল খননের সময় রামপাল উপজেলায় সরকারের তালিকাভুক্ত ৮৩ টি খাল ও পাঁচটি নদী পুন. খনন করা হয়। এরপর এসব নদী খালে আবারো নৌ-চলাচল শুরু হলেও আগের মতো পুর্ণ যৌবন ফিরে পায়নি। জোয়ারের পানি প্লাবন ভুমিতে প্রবেশ করতে না পারায় ধীরে ধীরে জোয়ারের পলি জমে নদী খালের তলদেশ ভরাট হয়ে আসে। সেই সাথে এক শ্রেনির মানুষ খাল দখলে নিয়ে মাছ চাষ করায় নব্যতা একেবারেই হ্রাস পায়। এখন ভাটার সময় এসব নদী খাল মানুষ হেটে পার হয়।
এদিকে উপজেলার দাউদখালি,বগুড়া, তেতুলিয়া, মইদাড়া, ভোলা নদী খনন করা হলেও নব্যতা সংকটে নদী গুলো অস্থিত্ত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। পলি জমে ভরাট হওয়া এসব নদীর দুই পাড় দখল করে বেড়িবাধ দিয়ে এক শ্রেনির মানুষ চিংড়ি চাষ করছে। কেউ কেউ বাড়ি-ঘর নির্মান করে বসবাসও করছে। এক শ্রেনির লোক অনেক সরকারি খালে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এতে বর্ষা মেীসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। আর একেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ।
বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী খাল দখলকারিদের তালিকা করে এ উপজেলায় কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোরও কোনো জোরালো ভুমিকা নেই। এ কারনে এ উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা নদী খাল এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
রামপাল বেড়িবাধ বাস্তবায়ন আন্দোলনের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেয়া এড শেখ মহিউদ্দিন বলেন নদী-খাল বাঁচাতে হলে এখনি সরকারি ভাবে অবৈধ নদী-খাল দখলদারদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এ ব্যপারে রামপাল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে সরকারি নদী-খাল দখলমুক্ত করা হবে।