নৌ-চলাচল হুমকির মুখে
নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট ॥ নাব্যতা সংকটের কারনে রামপাল উপজেলার নদী-খাল আবারো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারনে নৌ-চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। ভাটার সময় বেশির ভাগ নদী-খাল শুকিয়ে যাচ্ছে। ভরাট হওয়ানদী-খালের জেগে উঠা জমি এক শ্রেনির লোক দখলে নিয়ে বেড়ি বাধদিয়ে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি বাড়ি-ঘর নির্মান করে বসবাস করছে। এভাবে আস্তে আস্তে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে এক সময় নদী-খাল বেষ্টিত এ উপজেলার মানুষ সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আসা-যাওয়া করতো। তখনখুলনা- বাগেরহাট শহরের সাথে লঞ্চচলা চলও ছিল। নৌ পথের উপর নির্ভর করে নদীর তীর ঘেষে বশির ভাগ হাট বাজার গড়ে উঠেছিল। এখন নদী-খাল থাকলেও আগের মতো নেই নৌযান চলাচল। ১৯৮০ সালে আমন চাষের জমিতে লবন পানিতে চিংড়ি চাষ শুরুর পর থেকে এ উপজেলার নদী-খালের নব্যতা হ্রাস পেতে থাকে। মুলত তখন থেকে নদী-খাল ভরাট হতে থাকে। এক সময় পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেলে ২০০৮ সালে স্থয়ী ভাবে মোংলা-ঘষিয়া খালি আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেল সহ রামপালের সব নদীখালে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিগত ১৯৮০ সালে আমনের জমিতে বেড়ি বাধ দিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু হলে জোয়ার ভাটার পানি প্লাবন ভুমিতে উঠা-নামা বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জোয়ারের পানির সাথে আসা পলি ধীরে ধীরে নদী-খালের তলদেশে জমতে থাকে। এভাবে এক সময় সব নদী-খাল পলি জমে ভরাট হয়ে গেলে স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যায় চলাচল। বিগত ২০১০ সালে ৫৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা-ঘষিয়া খালি আর্ন্জাতিক নৌ-চ্যানেল সহ রামপাল উপজেলার পাঁচটি নদী ও ৮৩ টি সরকারি মালিকানাধীন খালপুন. খনন করা হয়। এরপর নব্যতা ফিরে আসে নদী-খাল গুলোতে। আবারো নৌ-চলাচল শুরুহয়।
আমনের জমিতে বেড়িবাধ থাকায় জোয়ার ভাটার পানি নদী-খালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে থাকতে আবারো পলি জমে নদী খালের তলদেশ ভরাট হতে থাকে। এখন পলি জমে বেশির ভাগ নদী-খাল ভরাট হয়ে গেছে। মোংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেল ছাড়া খনন করা পাঁচ নদী ও ৮৩ টি খালের বেশির ভাগই ভাটায় শুকিয়ে যায়। দাউদখালি নদী ছাড়া ভাটায় সময় অন্যান্য নদী-খালে হাটু পানি থাকে। মানুষ হেটে পার হয়।দাউদ খালি নদীর ভরাট হওয়া সম্পত্তি গোবিন্দপুর অংশে এক শ্রেনির লোক দখল করে বেড়িবাধ দিয়ে চিংড়ি চাষ ও বাড়ি-ঘর নির্মান করে বসবাস করছে।
যেীখালি পোল্ডারের ভিতর যৌখালি নদীর বেশির ভাগ নদী ভরাট হওয়া সম্পত্তি ওই নদীর দুই তীরের বসবাস কারি লোকজন দখল করে বসবাসের পাশাপাশি বেড়ি বাধদিয়ে মাছ চাষ করছে। ভরাট হওয়া এ নদী বর্ষাকালে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। পোল্ডার থাকলেও তা ঠিক মতো পরিচালনা করা হয় না। তেতুলিয়া, বগুড়া, মইদাড়া, ভোলা নদীও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় এসব নদীতে ছোট ছোট নৌযান চলাচল করে। এসব নদীর দুই তীরে ভরাট হওয়া জমি বেদখল হয়ে গেছে।
রামপালে নদী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন এড, শেখ মহি উদ্দিন। তিনি বলেন সামনে শীত মৌসুম শুরু হবে। শীত মৌসুমে মোংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেল ছাড়া রামপালের সব নদীখাল ভয়াবহ নব্যতা সংকটের মুখে পড়বে। এখন জোয়ারের সময় ছোট ছোট নৌযান গুলোকে পানি মেপে মেপে চলতে হয়। তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন এ উপজেলার সকল চিংড়ি চাষব ন্ধ রেখে নদী-খালের মতো আমনের জমি সম্পুর্ণ উম্মুক্ত করে দিতে হবে। চাষীদের একই সাথে পাঁচ বছরের ক্ষতি পুরন দিতে হবে। পাঁচ বছর নদী-খাল উম্মুক্ত থাকলে আবার পুর্বের মতো যৌবন ফিরে পাবে। সরকারের আর কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদী-খাল খনন করতে হবে না।
উপজেলা সহকারিক মিশনার (ভুমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন সরকারি নদী-খালের জায়গা কারা করে আছে তার তালিকা করে দখলমুক্ত অভিযান চালানোহ বে। এছাড়া নদী-খালে কেউ প্রতিবন্ধকতা করে থাকলে তাও দুর করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিবেশ ,বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে কয়েকটি খালের অবৈধ বাধ কেটে দিয়েছি।