/ খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১৫,৯৮৯ জন, মৃত্যু ৬১

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১৫,৯৮৯ জন, মৃত্যু ৬১

খুলনায় আক্রান্তে ৬,১৬৫জন, মৃত্যু ২৪

রহমাতুল্লাহ : খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের গতকাল শনিবার পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৭১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৫৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় সর্বোচ্চ ৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

প্রতিবেদনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ জন নতুন রোগী ভর্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩০৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে হাসপাতালটিতে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২৪০ জন।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, খুলনায় চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ১৬৫। যা খুলনা বিভাগের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এবছর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ফিরেছে ৫ হাজার ৫৩৪ জন এবং মারা গেছেন ২৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১০ জন। এছাড়া ‍দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশি বাগেরহাট জেলা। জেলায় মোট আক্রান্ত ২ হাজার ১১৫ জন। মারা গেছে ৩ জন। এতালিকায় নিম্নের সারিতে রয়েছে মেহেরপুর জেলা। মোট আক্রান্ত ৩০৫ জন। মৃত্যুর কোঠা শূন্যের ঘরে।

রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলখানাঘাটের ওপার থেকে স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসা নিতে আসা হোসনেয়ারা বেগমও শয্যা না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান করছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মাথাব্যথা, বমি ও শরীরব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। নগরবাসীর কেউ কেউ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী হায়দার বলেন, তাঁরা নিয়মিত বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখছেন এবং দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

এদিকে রোগীদের রক্তের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। মানবিক সংগঠন খুলনা ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট রক্তের। স্বেচ্ছাসেবীরা চেষ্টা করেও চাহিদা অনুযায়ী রক্তের জোগান দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলনের (বাপা) সমন্বয়কারী বাবুল হাওলাদার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের পূর্বপ্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, ব্যবহৃত ওষুধে মশার লার্ভা ধ্বংস হচ্ছে না।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিদিন কাজ করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ঘনবসতি ও অপর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু এলাকায় শৌচাগারের পানি সরাসরি ড্রেনে চলে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জাহিরুল হক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত দুর্বলতা, ক্লান্তি, খেতে না পারা, বমি বা পাতলা পায়খানার মতো উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে যেতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে হবে।