/ কয়রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না

কয়রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না

নিজস্ব সংবাদদাতা,কয়রা খুলনা: বিদ্যুতের কথা বলে কোনো লাভই নেই , একবার গেলে কয়েক ঘন্টা পরে আসে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই থাকে না। কাজই তো করতে পারি না। কারেন্ট না থাকলে ব্যবসাও বন্ধ। তারপরও দোকান খুলে বসে আছি। কি করব আর। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের।

উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন তার স্টেশনারি দোকান। ফটোকপি থেকে তাঁর বেশি আয় হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ফটোকপি বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দরকারি কাগজপত্র ফটোকপি করতে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের সঙ্গে।


এ সময় বিদ্যুতের ভোগান্তি নিয়ে জুবায়ের বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে লোডশেডিং চলছে। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস দেখা দিলে বিদ্যুৎ চলে যায়। আর আসার নাম থাকে না। এক বার গেলে কয়েক ঘণ্টা পরে আসে। আর ঝড় বৃষ্টি হলেই তো আর বিদ্যুৎ একেবারেই আসেনা। তার পরতো সপ্তাহে দুই বার লাইনের ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ দেখিয়ে মাইকিং করে সারা দিন বন্ধ রাখে। তাঁর ভাষ্য, ‘দিনের বেলায় ৮ থেকে দশ বার যায়। আগে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ কপি ফটোকপি করা যেত, অথচ এখন পারি না। আবার ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে ফটোকপি মেশিনেও ত্রুটি দেখা দেয়।


উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,লোডশেডিংয়ের ফলে কয়রার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে কতবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে, তার কোনো হিসাব নেই। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী দুই ঘণ্টা দেখা মিলছে না বিদ্যুতের। উপজেলা সদরের থেকে গ্রামগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। একবার বিদ্যুৎ গেলে আবার যে কখন আসবে, তা কেউ বলতে পারে না। এ অবস্থা চলছে দিনের পর দিন।রাতের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৩-৪ ঘণ্টা।


লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি ও ব্যাবসায়িক কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।


কয়রা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন,জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়রায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১০ মেগাওয়াট। আমাদের সে অনুযায়ী বরাদ্দ নাই। আমরা পাচ্ছি ৪/৫ মেগাওয়াট কখনো তার কমও পাচ্ছি । কয়রায় বিদ্যুৎ গ্রাহক ৬৪ হাজার। এত সংখক গ্রাহকদের ১০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকের কম দিয়ে চালাতে হচ্ছে।তাই না চাইলেও লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি ছাড়াও, জরাজীর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, পুরোনো যন্ত্রপাতি আর ঝড়বৃষ্টির কারণে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমতে পারে বলে জানান তিনি।