/ খুলনার কপিলমুনি, দাকোপ ও ডুমুরিয়ায় শুরু রথযাত্রা উৎসবশোভাযাত্রা-মেলা-প্রসাদ বিতরণে ভক্তদের ঢল

খুলনার কপিলমুনি, দাকোপ ও ডুমুরিয়ায় শুরু রথযাত্রা উৎসবশোভাযাত্রা-মেলা-প্রসাদ বিতরণে ভক্তদের ঢল

পুর্বাঞ্চল ডেস্কঃ খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি, দাকোপ ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব| তিন উপজেলাতেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পূজা-অর্চনা, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ ও মেলার মধ্য দিয়ে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে উৎসবের সূচনা হয়েছে| আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে নয় দিনব্যাপী এ আয়োজন|


কপিলমুনি থেকে অরুন বিশ্বাস জানান, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির ঐতিহাসিক কপিলেশ্বরী কালিমন্দিরের মিলনমন্দির প্রাঙ্গণে প্রধান উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী পরিমল সাধুর উদ্যোগে এবং স্থানীয় ভক্তবৃন্দের সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার শুরু হয় রথযাত্রা উৎসব| এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় মঙ্গলঘট স্থাপন ও গন্ধ্যাধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়| বৃহস্পতিবার সকালে মঙ্গলারতি, প্রদীপ প্রজ্বালন, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভোগ আরতি ও পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়|


বিকেলে নানা রঙে সজ্জিত রথ নিয়ে শিশু-কিশোর, কীর্তনদল, ব্যান্ড পার্টি ও ভক্তদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়| শোভাযাত্রাটি কপিলেশ্বরী কালিমন্দির প্রদক্ষিণ করে শ্রীশ্রী লীলাকণ্ঠ বাবার মন্দির হয়ে পুনরায় মিলনমন্দিরে ফিরে আসে| সন্ধ্যা পর্যন্ত রথটি সেখানে অবস্থান করে| একই সঙ্গে শুরু হয় রথের মেলা, যা রাত পর্যন্ত চলে| অনুকূল আবহাওয়ায় এবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য|


রাতে শোভাযাত্রাসহ রথটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরম কৃষ্ণভক্ত ডা. শেখর পাইনের বাড়ির মন্দিরে, যা জগন্নাথদেবের ‘মাসির বাড়ি’ নামে পরিচিত, সেখানে নেওয়া হয়| আগামী নয় দিন প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় পূজা, ধর্মীয় আচার ও প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে| আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথের মাধ্যমে দেবতাকে পুনরায় কপিলেশ্বরী কালিমন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে| এ উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা, ভাগবত পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন থাকবে| প্রধান উদ্যোক্তা পরিমল সাধু উল্টো রথে সনাতন ধর্মাবল¤^ীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন|


নিজস্ব সংবাদদাতা, দাকোপ (খুলনা) জানান, উপজেলার কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দ মন্দির, চালনা বৌমার গাছতলা, চালনা বাজার সার্বজনীন রাধা-গোবিন্দ মন্দির (মাসির বাড়ি) এবং গোড়কাঠি সার্বজনীন রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব|


বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়| রথযাত্রা মহোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অতীন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং ডা. সন্তোষ কুমার মজুমদার ও সাবেক শিক্ষক পরিমল চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল ১১টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চালনা বাজারের মাসির বাড়িতে পৌঁছে|
নয় দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রতিদিন হরিনাম সংকীর্তন, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভাগবত পাঠ, পদাবলী কীর্তন, আরতি, ধর্মীয় আলোচনা এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন রাখা হয়েছে| আগামী ২৫ জুলাই উল্টো রথের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি হবে| অনুষ্ঠানে যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন লাল সাহা, সদস্যসচিব বিলাশ বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র হালদার, সাবেক অধ্যক্ষ দিবাকর মণ্ডল, গৌতম সাহাসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবল¤^ীরা উপস্থিত ছিলেন|


নিজস্ব সংবাদদাতা, শাহপুর (খুলনা) জানান, গত বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়া উপজেলার ১২ ন¤^র রংপুর ইউনিয়নের কালীবাটি ইউনাইটেড ক্লাব ও মাতৃমন্দির প্রাঙ্গণেও ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব| অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নিতাই মণ্ডল|


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোল্লা মোশারফ হোসেন (মফিজ)| বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন এবং রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল সালাম| এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন|


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোল্লা মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের এই পবিত্র মহোৎসব সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক| ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি|
দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, কীর্তন, রথ টানা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়| আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ¯^তঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে|
জেলা জুড়ে রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ এবং মেলার আয়োজন করা হয়েছে| উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে| আগামী সপ্তাহে উল্টো রথকে কেন্দ্র করে আবারও ভক্তদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন|