/ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর হত্যায় ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর হত্যায় ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

শিবির সভাপতিকে প্রধান আসামি করে ২০০ জনের নামে মামলা


দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যার ঘটনায় ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬) কে প্রধান আসামি করে দুইশ’ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

হত্যাকান্ডের তিনদিন পর সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় ৪জনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড়ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব (সাফি) (৪৫)।

এছাড়াও অজ্ঞাত একশত ৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়। তবে হত্যাকান্ড সংঘঠিত হওয়ার ৫দিন পার হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। মামলা দায়েরের পর থেকে চরম অস্বস্থি ও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন মামলার বাদী নিহত পীরের বড়ভাাই ফজলুর রহমান সান্টু। তিনি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলে চরমভাবে বিরক্ত হচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।


হত্যা মামলার বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদ বলেন, যে হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে সে হত্যাকান্ডের আগে বা পিছনে, গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে আমার কোন ধরণের দায়বদ্ধতা নাই। আমি কোন ধরণের এ্যাক্টিভিটির সাথে সম্পৃক্ত না। আমাকে কেউ কেউ ফোন দিয়ে আমার আবেগকে কাজে লাগানোর জন্য চেষ্টা করেছে। আমি সবসময় বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি এটা আইনের মাধ্যমে সুরাহা হওয়া দরকার। আমি নিজেও জানতাম না যে, মানুষ তাকে (শামীম) এভাবে হত্যা করবে। আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে কারণ এলাকায় জনসম্পৃক্ততামূলক কাজ করায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আমাকে ফিলিপনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থী হিসেবে আমি যাতে ভূমিকা পালন করতে না পারি এবং জনগণ থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি সে কারণে একটি স্বার্থন্বেষী মহল আমাকে এই ষড়যন্ত্রের ভেতর ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনার সাথে আমি কোনভাবেই সম্পৃক্ত না বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এদিকে শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদকে ‘পীর’ হত্যায় প্রধান আসামি করা ও হত্যাকান্ডে জামায়াতের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ হওয়ায় দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারী ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, ফিলিপনগরের ঘটনা কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অংশ নয়, এমনকি ঘটনার সাথে জড়িত কেউই রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নয়। স্থানীয়রা আকষ্মিকভাবে ঘটনা ঘটিয়েছে, এটা রাজনৈতিক কোন পরিকল্পনার অংশ নয়।


হত্যা মামলার ২নম্বর অন্য আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, স্থানীয় কিছু লোক দরবারে হামলা চালায়। আমি সেখানে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, পীর হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত একশত ৮০ থেকে দুইশ’ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, দরবারে হামলার দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও ২২ থেকে ২৫ জনকে শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় পীরের ভক্ত ও এলাকাবাসী অসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে ফিলিপনগর দরবার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।