খুলনা জামায়াতের নিন্দা
স্টাফ রিপোর্টার: ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে পথসভা চলাকালে ফলবাড়িগেটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণ টি গাড়িবহর লক্ষ্য করে হয়নি ফাঁকা রাস্তার উপর হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে খুলনা থেকে ফুলতলা উপজেলার পথসভায় যাওয়ার পথে, ফুলবাড়ীগেট এলাকার, শহীদ মিনারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও জামায়াতের একটি তোরনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লংমার্চের গাড়ি বহর, খুলনা থেকে ফুলতলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ফুলতলা বাজারে পথসভা শেষে সেখান থেকে যশোরে যাওয়ার কথা। লংমার্চের গাড়ি বহর ফুলবাড়ী গেট পার হওয়ার আগে শহীদ মিনারের পেছনের রাস্তার ওপর একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে আরেকটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিল। হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তারা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। পরে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে ফুলবাড়িগেট এলাকার একটি তোরণে আগুণ ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি।
খুলনা অঞ্চল জামায়াত নেতৃবৃন্দের নিন্দা: নগরীর ফুলবাড়ীগেটে ১১ দলীয় ঐক্যের শান্তিপূর্ণ লংমার্চের গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলা ও নাশকতা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম, মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি। অন্যরূপ বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এমপি, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম ও সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি হিসেবে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর থেকে ফুলতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা শান্তিপূর্ণ লংমার্চের গাড়িবহরে ফুলবাড়ীগেট পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হেলমেট পরা একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী পরপর চার-পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ককটেল বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার তাগিদে সবাই ছোটাছুটি শুরু করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ফুলবাড়ীগেটে লংমার্চকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় জনগণের নির্মিত একটি তোরণে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতকারীরা।
আমরা স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি যে, মিরেরডাঙ্গা এলাকার যুবদলের দুই নেতার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এ কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক ককটেল হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে হিংস্রতা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা খুলনা অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় রাজনীতির সংস্কৃতি ও সুশাসনের জন্য এক চরম হুমকি। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও বিস্ফোরিত ককটেলের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। হামলাকারী ও মিরেরডাঙ্গা এলাকার অভিযুক্ত যুবদল নেতৃবৃন্দসহ এই ঘটনার পেছনের কুশীলবদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে, ফুলবাড়ীগেটসহ সমগ্র খুলনা অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান নেতৃবৃন্দ।