/ নাসিম হত্যা: ৩ দিনেও মোটিভ অজানা, ওসি প্রত্যাহার

নাসিম হত্যা: ৩ দিনেও মোটিভ অজানা, ওসি প্রত্যাহার

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, দিঘলিয়া (খুলনা) || দিঘলিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে চরমপন্থী দলের একসময়ের আলোচিত নেতা নাসিমুল গণি নাসিম হত্যার তিন দিন পরও হত্যার মোটিভ জানতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে সিসিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুমকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।


তবে কী কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা পুলিশ সূত্রে জানা যায়নি। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
গত সোমবার রাতে নিহত নাসিমের স্ত্রী মোসা. সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬। তবে মামলার মূল এজাহারে চারজনের নাম ভিন্নভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।


পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দু’জনকে সিসিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দু’জন লুঙ্গি পরা অবস্থায় একটি ভ্যানে করে ঘটনাস্থলে আসে। পরে খালি পায়ে ভ্যান থেকে নেমে গুলি করতে করতে নাসিমের দোকানের ভেতরে ঢোকে। সেখানে বসে থাকা নাসিমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে তারা। মৃত্যু নিশ্চিত করে ওই ভ্যানেই নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিল রেখে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজন দু’জনের ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।


দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এদিকে সোমবার সকাল ১০টায় স্থানীয় ফরমাইশ খানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নাসিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


উল্লেখ্য, গত রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশ খানা গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে নাসিমুল গণি নাসিমকে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।