/ মনিরামপুরে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় প্রতারক চক্র

মনিরামপুরে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় প্রতারক চক্র

শিক্ষা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন করে নিচ্ছে পিন ও ওটিপি

নিজ্স্ব সংবাদদাতা, নেহালপুর (মনিরামপুর) ঃ যশোরের মনিরামপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের পর থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র| শিক্ষা অফিস বা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তার পরিচয়ে অভিভাবকদের ফোন করে গোপন পিন ও ওটিপি ন¤^র সংগ্রহের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা|

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে| অনেক অভিভাবক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে নিজেদের গোপন তথ্যও দিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে|


শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলায় ১১৮টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৯টি মাদ্রাসা এবং ১৩টি কলেজ রয়েছে| মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি এবং কলেজ পর্যায়ে একাদশ থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বছরে দুই দফায় উপবৃত্তি পেয়ে থাকে|
চলতি বছর শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতেই ৩ হাজার ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় এসেছে| গত ২৯ জুন অভিভাবকদের ব্যাংক, নগদ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হয়| এর পর থেকেই প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে| অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতারকরা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে উপবৃত্তির টাকা নিশ্চিতকরণ বা হিসাব যাচাইয়ের কথা বলে পিন ও ওটিপি নম্বর জানতে চাচ্ছে|
রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক নাজমুল হোসেন, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, ফাতেমা খাতুন ও আবু আব্দুল্লাহ জানান, তাদের কাছেও এ ধরনের ফোন এসেছে| বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই গোপন তথ্য দিয়ে দিয়েছেন|


নাগোঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত অভিভাবক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে গোপন তথ্য দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি|
কালারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মুক্তা খাতুন বলেন, শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে তথ্য চাওয়া হয়| বিষয়টি না বুঝে তথ্য দিয়ে দিই| পরে বুঝতে পেরে দ্রুত পিন নম্বর পরিবর্তন করি|
একই ধরনের ফোন পেয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন অভিভাবক, যার মধ্যে ফয়সাল কবীর ও ফাহিম বিল্লাহ রাজুর পরিবারও রয়েছে|
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোজাফফর হোসেন বলেন, উপবৃত্তির টাকা বিতরণের পর থেকেই এ ধরনের অভিযোগ অহরহ আসছে| অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে| তিনি বলেন, কোনো সরকারি দপ্তর কখনো ফোন করে কারও পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি নম্বর চায় না| কেউ এ ধরনের তথ্য চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন কেটে দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে|