ডাববোঝাই নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ
হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিশোরের মৃত্যু
এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) ঃ সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে সড়কে ছুটছিল যানবাহন। কেউ ফিরছিলেন বাড়ির পথে, কেউ যাচ্ছিলেন গন্তব্যে। এরই মধ্যে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের দোনা এলাকায় হঠাৎ বিকট শব্দ। ডাববোঝাই নসিমনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি মোটরসাইকেলের। মুহূর্তেই সড়কে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দু’জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত এক কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই থেমে যায় তার জীবন। পরে জানা যায়, এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত তিনজন হলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা এলাকার বাবুল মোল্লার ছেলে রিমন মোল্লা (২৫), একই এলাকার নজরুল খানের ছেলে আমিন খান (২২) এবং জামাল মাস্টারের ছেলে শোয়েব (১৬)।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ডাববোঝাই একটি নসিমন কালিকাবাড়ির দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি জিক্সার মোটরসাইকেল। দোনা এলাকায় যান দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আরও দুটি মোটরসাইকেল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সড়কের ওপর আহতদের পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় রিমন মোল্লা ও আমিন খান ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গুরুতর আহত শোয়েবকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ১৬ বছরের শোয়েবের মৃত্যুতে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশও কাজ করে। আহত ছয়জনকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন, বাবুল খানের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদ, গুলিশাখালী এলাকার লুৎফর হাওলাদারের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম, মো. সিয়াম, পিরোজপুরের লক্ষণ চন্দ্র দাসের ছেলে উজ্জ্বল চন্দ্র দাস, অপর্ণা দাস এবং তাঁর আড়াই বছরের শিশু উমা দাস।
একই দুর্ঘটনায় একটি ছোট শিশুর আহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বজন ও পরিচিতজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের উদ্বেগ আর আহতদের চিকিৎসার ব্যস্ততায় কিছু সময়ের জন্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সিফাত খান বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। আহত অবস্থায় আরও ছয়জন হাসপাতালে আসেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে এগিয়ে আসেন।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, একটি দুর্ঘটনা কয়েকটি পরিবারকে একসঙ্গে শোকের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সন্ধ্যার যে সড়কে কিছুক্ষণ আগেও স্বাভাবিকভাবে চলছিল যানবাহন, সেখানেই মুহূর্তের সংঘর্ষে নিভে গেছে তিনটি জীবন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে নিয়ে এখন উদ্বেগে স্বজনরা।