/ রামপালে একই খামারে পোল্ট্রি ও মাছ চাষ পদ্ধতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রামপালে একই খামারে পোল্ট্রি ও মাছ চাষ পদ্ধতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা ফয়লাহাট(রামপাল) বাগেরহাট : একই খামারে মাছ ও পোল্ট্রি মুরগী চাষ করার কোনো নিয়ম না থাকলেও রামপাল উপজেলায় তা নিয়মে পরিনত হয়েছে। মানব দেহের জন্য কতটা ক্ষতির প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়টি মাথায় এনে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আর এ কারনেএ উপজেলায় দিনদিন এর প্রভাব বিস্তার করছে।


উপকুলীয় এ উপজেলায় আনুমানিক ১৯৮০-৮১ সাল থেকে বানিজ্যিক ভাবে লবন পানিতে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়। আস্তে আস্তে চিংড়িচাষের সাথে সাথে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, সিলভারকার্প সহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় প্রজাতির মাছ চাষ শুরু হয়। অধিক লাভের আশায় কোনো কোনো ঘের মালিক ঘেরের পাশে লম্বালম্বি ঘর বেধে স্বল্প পরিসরে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চা লালন-পালন শুরু করে। এখন তাব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে চোখ মেলে তাকালেই দেখা মেলে মাছের ঘেরের সাথে শতশত পোল্ট্রি মুরগীর খামার।


নজরুল ইসলাম নামের একজন ঘের মালিক বলেন একই সাথে একই খাবারে মাছও মুরগী লালন-পালন করা যায়। মুরগী খাবার খেয়ে পায়খানা করলে সেই পায় খানা মাছের খাবার হয়। এতে মুরগীর সাথে মাছও দ্রুত বড় হয়।তিনি আরও বলেন ঘের মালিকরা এখন একই সাথে এক খরচে মাছ ও মুরগীর উৎপাদনের উপরজার দিয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে মানুষ পুকুরেও এভাবে একই সাথে মাছ ও মুরগীর চাষা বাদ শুরু করেছে। এতে লাভ ও ভালো হয় বলে ওই ঘের মালিক জানান।


ওই ঘের মালিকের দেয়া তথ্য মতে উপজেলার একটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা মিলেছে একই সাথে মাছ ও মুরগীলালন—পালনের দৃশ্য। দেখা গেছে অসংখ্য লম্বালম্বি গোল পাতার ঘরে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চা লালন পালন করতে। বস্তায় বস্তায় খাবার দেয়া হচ্ছে। মুরগীর বাচ্চারা সেই খাবার খেয়ে তিনমাসের মধ্যে বড় হয়ে যাচ্ছে। খামার মালিক রাবাড়তি লাভের আশায় পোল্ট্রি খামারের নীচে সাদা মাছের চাষও করেছেন। খামারের মুরগী খাবার খেয়ে পায়খানা করলে তাা নিতে পড়ে। আর সেই পায়খানা খেয়ে বড় হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ।


স্থানীয় একজন গবাদী পশূ পাখি চিকিৎসক জানান সাধারনত গম, ভুষি, সামুদ্রিক মাছের সুকনো গুড়া, ডটমেডিসিন, কোনিলক্লোরাইড, ডাইক্লোমাইসিন, লাইছিন, অয়েল, মাদুরা মাইসিন, মিসাইলিং সহ বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রনে পোল্ট্রি মুরগীর খাবার তৈরি করা হয়। এসব খাবার খাওয়ালে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চা তিন মাসের মধ্যে মানুষের খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়।মুরগীর বিষ্টা খেয়ে একই সাথে মাছও দ্রুতবড় হয়। মুরগী ও মাছ খেলেহার্ট ্এ্যটাক, কিডনির ক্ষতি, এমোনিয়া এসিডসহ দেহে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে মত দেন ওই চিকিৎসক।
ওই খাবার খাওয়া মুরগি ও মাছমানব দেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে মৎস কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন আমার কাছে এর কোনো ডাটা নেই,তাই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না।


তবে উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের অবসরে যাওয়া অন্য একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশনা করে বলেন একই সাথে মুরগী ও মাছ চাষ করার কোনো নিয়ম নেই। আনুমানিক ৮-৯ বছর পুর্বে সাবেক মৎস কর্মকর্তা একই সাথে মুরগী ও মাছ চাষ বন্ধের উদ্যেগ নিলেও নানা কারনে তা বন্ধ হয়নি। এখন এ উপজেলায় এরবিস্তার অনেক বেড়ে গেছে।


জেলা মৎস কর্মকর্তা জয়দেব কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কোন ভাবেই একই সাথে একই খামারে পোল্ট্রি ও মাছ চাষ করা যাবে না। পোল্ট্রি মুগরী যে খাবার খেয়ে পায়খানা করে সেই পায়খানা মাছও খায় যা মোটেও ঠিক নয়। এটা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।