নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা মৎস অবতরন কেন্দ্রে দীর্ঘ নয় বছর ধরে মাছ ক্রয় বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। এ কারনে স্থানীয় ক্ষদ্র মাছ ব্যবসায়ীরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাছ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কেন্দ্রটি এখন পোল্ট্রি খাবারের গুদাম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রামপাল উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায় ১৯৯৬ সালে উপজেলার ভাগা বাজারের পশ্চিম পাশে ভাগা- কাদিরখোলা- চালনা সড়কের গা ঘেষে এ মৎস অবতরন কেন্দ্রটি নির্মান করা হয়। কেন্দ্রটি নির্মানের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাছ ক্রয়- বিক্রয়ের জন্য উম্মুক্ত না করে কোনো রকম দরপত্র ছাড়াই সাবেক রামপাল উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খুলনার সিগমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মাছ কোম্পানীর কাছে লীজ দেন।
লিজ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটি এ অবতরন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন ধরে মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে। কয়েক মাসের ব্যবধানে লোকসানের দোহাই দিয়ে মাছ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে কেন্দ্রটি সাব লীজ দেয়া হয়। সাব লীজ নিয়ে ওই ব্যক্তিটি স্থানীয় দুটি পোল্ট্রি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে লীজ দেন। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘ দিন ধরে পোল্ট্রি খাবারের গুদাম হিসাবে ব্যবহার করছে কেন্দ্রটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কেন্দ্রের ভিতর সারি সারি পোল্ট্রি খাবারের বস্তা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় মৎস ক্রয় — বিক্রয় সরঞ্জাম মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। দরজা -জানালার অবস্থাও শোচনীয়। নির্মানের পর একবারও কেন্দ্রটিতে কোনো সংস্কারের ছোয়া পড়েনি। কেন্দ্রেটির চারপাশে অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতায় ভরা। এখন মাছ ক্রয় বিক্রয়ের কোনো পরিবেশ নেই এ অবতরন কেন্দ্রটিতে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীরা জানান এ মৎস অবতরন কেন্দ্র তাদের জন্য উম্মুক্ত করে না দিয়ে অন্যের কাছে লিজ দেয়ায় তাদের কোনো কাজে আসেনি। নির্মানের পর উপজেলা মৎস অধিদপ্তর স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা না করে নিয়মবহির্ভুত ভাবে লীজ দেয়ায় এমন বেহালদশা হয়েছে এমনটা মনে করেন তারা। আর এমন অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে অপিরচ্ছন্ন পরিবেশে মাছ ক্রয়- বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
এ বিষয় উপজেলা মৎস অফিসার বিনয় বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ১০ বছরের লীজ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন এটা ডিএফও অফিস থেকে লীজ দেয়া হয়েছে। আমি নুতন এসেছি। ওখানে আমি একবার গিয়েছি। কেন্দ্রের পাশে একজন কাকড়া প্রসেস করে। এখন মাছ ক্রয় বিক্রয়ের পরিবেশ নেই। সংস্কার দরকার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাইলে তাদের জন্য কেন্দ্রটি চালুর উদ্যেগ নেয়া হবে।