এইচ এম রোকন,রূপসা (খুলনা): শহরতলী উপজেলা রূপসার এক সময়ের শান্ত জনপদে গত ২০২৪ সালের আগষ্ট পরবর্তী হতে চলমান সময় পর্যন্ত উপাজেলা জুড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। একের পর এক অপ্রতিকার ঘটনা ঘটেই চলেছে। দিনের পর দিন খুন, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। যে কারণে এই জনপদের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে, শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। গত ২০২৪ সালের আগষ্ট পরবর্তী হতে চলমান সময় পর্যন্ত এই ১৯ মাসের মধ্য বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে এই এলাকার মানুষের মনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী ১৯ মাসে ২১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে যার মধ্য ৯ টি হত্যাকান্ড মাদকের আধিপত্যে ঘিরে। এছাড়া ও একাধিক হত্যা চেষ্টা,ধর্ষণ, লুট, ছিনতাই সহ অসংখ্য অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঘটনা সহ কুপিয়ে জখমের বেশ কয়েকটি ঘটনা রয়েছে।সেই সাথে চলছে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে,প্রাথমিক পর্যায়ে এসব গোলাগুলি, হামলা, খুন বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব। প্রকাশ্যে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খুন, হত্যা চেষ্টা,ধর্ষণ,ছিনতাই, ও গোলাগুলি এই এলাকায় যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ।কিছুদিন যেতে না যেতেই উপজেলায় বারবার ঘটছে গুলিবিদ্ধর ঘটনা।বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলো ঠিকমতো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রূপসায় এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশকে মারপিট করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। যদিও পরে পুলিশ এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় মো. মোহর আলী (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রী ধারালো কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।চলতি বছরেন ২৭ জানুয়ারি রূপসায় চিংড়ি মাছ ব্যবসায়ী মামুন অর রশিদ বাবু (৩৮) নামে একজনকে নিকলাপুর গ্রামে গুলি করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার বাগমারা এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে আব্দুল রাশেদ ওরফে বিকুল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।এর আগে গত ২ জানুয়ারি রাত পৌনে ১১ টার দিকে আইচগাতীর রাজাপুর এলাকায় ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জাবুসা এলাকায় সাগর শেখ (৩০) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। একই বছরে ৬ নভেম্বর রাতে রূপসায় আবারো গুলি করে হত্যা করা হয় রহিমনগর গ্রামের সোহেল হাওলাদার (৪৫) নামে এক যুবককে।রূপসা থানার সংশ্লিষ্টতথ্যানুযায়ী আরো জানাযায়, একই বছরের ১৯ অক্টোবর সকালে পূর্ব রূপসা পার্কিং সেন্টারের (গ্যারজ) পেছনে ডোবা থেকে রেজাউল ইসলাম (২০) নামে এক চা দোকানির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।তার আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জয়পুর একটেল টাওয়ারের পেছনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমরান হোসেন মানিক (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়।একই দিন দুপুরে আইচগাতীর যুগীহাটি এলাকায় পলাশ শেখের স্ত্রী পারভীন বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। কয়েকদিন আগে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তার মোড় বিলের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির হাত -পা বাঁধা অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯ জুন সকালে শ্রীফলতলার আঠারবাকি নদীর চর থেকে নৌ পুলিশ অজ্ঞাত যুবক (৩৫) এর গলিত লাশ উদ্ধার করে।এরই একদিন পূর্বে অর্থাৎ ৮ জুন উপজেলার আইচগাতী উত্তর পাড়া এলাকা হতে এক গৃহবধূর মৃতদেহ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।অপরদিকে একই দিনে শ্রীফলতলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর কলা বাগানের মধ্যে আইচগাতীর মিল্কী দেয়াড়া এলাকার ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম (২১) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এর আগে ২৫ মে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে মোছাব্বরপুর গ্রামে দুর্বত্তের গুলিতে মো: রনি ওরফে কালো রনি (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, ২২ মে রাত সাড়ে দশটার দিকে শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে আবদার শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। তাছাড়া ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রূপসার আইচগাতী উত্তর পাড়া এলাকায় শাওন নামে ৭ বছরের একটি শিশুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।একই বছর ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার নৈহাটি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী গুলফার নাহার সেতারা (৬৫) কে হাত পা বেঁধে মাথায় বেধড়ক আঘাত করে হত্যা করে সন্ত্রাসীর।তার কিছুদিন আগে ৫ আগষ্ট সোমবার রাতে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল এলাকার ছয়পার শেখের বাড়ির পিছনে একটি মাছের ঘেরে আবুল শেখ (৪০) নামের একজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ৬ আগষ্ট বিকালে রূপসা বাসষ্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির সন্নিকটে রিয়াজুল নামে একজনকে গুলি ও পরে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।এছাড়াও আইচগাতি ইউনিয়নের দেয়াড়া খালের ঘাটের রুবেলের ডগের পাশ হতে অজ্ঞাত ব্যক্তির (৫০) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।অপরদিক, একই বছরে ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সেনের বাজার এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চাপাতি কোপে আরিফ (২৬) নামের এক মাংস ব্যবসায়ী নিহত হয়। এর ২ দিন পর ভৈরব নদী থেকে আরিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েল শেখ (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এছাড়া ও রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বিকাশ এজেন্ট বনি আমিন (৩২) কে গুলি করে ৮০ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা । ২০ অক্টোবর সন্ধায় আইচগাতী দেয়াড়া বটতলা এলাকায় ইউনুস সরদার সাগর (৩২)ও একই এলাকার শাহিন শেখ (২৮) নামে দুজন যুবককে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা।এর আগে ১৯ অক্টোবর সকালে উপজেলার পুটিমারি বিলে সুমন শেখ (২৮) নামে এক যুবক কে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ৩১ আগস্ট গভীর রাতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে কিবরিয়া নামে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়।গত ১৮ জুন সন্ধায় মার্কেটিং কোম্পানির ডেলিভারি ম্যানের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিঢে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই অর্থাৎ ৮ জুন নৈহাটির জয়পুরে খ্রিস্টান কলোনি এলাকার দক্ষিণপাড়ায় এক গৃহবধূকে সঙ্গবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ৮ এপ্রিল নৈহাটি মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ৩ যুবককে কুপিয়ে যখম করে মাদকসেবীরা। এর কয়েকদিন পূর্বে ৩০ মার্চ বাগমারা গ্রামের রুবেল শেখ (৩২) বাগমারা মোমিন সুফি জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে বের হলে ৬-৭টি মোটরসাইকেল ১৪-১৫ জন মুখোশ পরিহিত সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।। একই দিনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের সালাম শেখের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২) কে ৫-৬ জন সন্ত্রাসী গুলি করে।অপরদিক,গত বছরে ৩০ অক্টোবর রাতে শ্রীফলতলা পুলিশ ফাঁড়ির নিকট জামাল গাজী (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে গলাকেটে হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে।২১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার জয়পুর গ্রামের হেলার বটতলায় সাব্বির (২৭) নামের এক যুবক সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়।একই বছরের ৬ ডিসেম্বর বিকালে রূপসা মর্ডান সী ফুডের সামনে বাগমারা গ্রামের ইমরান হোসেন (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।২৩ জানুয়ারি সন্ধার আইচগাতী ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার ইকরাম হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবককে সন্ত্রাসীরা তার নিজ বাড়িতে গুলি করে আহত করে।
এব্যাপারে,স্থানীয়রা জানায়, খুলনা শহরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা রূপসা উপজেলা ঘিরে নিজেদের আস্তানা গড়ে তুলেছে।অপরদিকে,খুলনা থেকে রূপসার অদূরে গ্রামাঞ্চল হওযায় মাদক ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে তাদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এরসঙ্গে জড়িত কয়েকটি গ্রুপ আর শতাধিক কিশোর রয়েছে।সম্প্রতি রূপসা অঞ্চল মাদকের হটস্পটে পরিণত হয়েছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাই মাদক ব্যবসায়ী। প্রতিনিয়ত তারা রুট এবং অবস্থান পরিবর্তন করছেন এমনটি জানিয়েছেন পুলিশের আরেকটি সূত্র। নিজেদের মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারে প্রতিপক্ষকে জানান দিতে বিভিন্ন জায়গায় গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেরকে প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছি বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। যদিও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই অপরাধীরা তাদের নিত্যদিনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।রূপসা থানা সূত্র জানায়, রূপসায় অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। অনেকে জামিনে বের হয়ে ফের চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে। কিশোর গ্যাং গুলো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে ঘুরছে। সব ঘটনার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের তালিকা করা হচ্ছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বর্তমান গতিবিধি এবং কর্মকান্ড নজরে রাখা হচ্ছে। চলমান এই পরিস্থিতির লাগাম টানতে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে মাদকের চালান উদ্ধার সহ মাদককারবারী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।উপজেলার সচেতন মহল বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলো ঠিকমতো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীচক্রগুলো এর সুযোগ নিচ্ছে। যার ফলে অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।যে কারনে এই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রধারীদের হাতে গুলি কিংবা কুপিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। অবিলম্বে পুলিশকে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে তৎপর হওয়ারার আহ্বান জানান তারা।
এ ব্যাপারে, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজজাক মীর বলেন, এ সকল হত্যাকারী ও অপরাধ কর্মকান্ডে যারা জড়িত তাদের ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। সন্ত্রাসী কারর্যক্রম দমনের সকল চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অধিকাংশ অভিযানে পুলিশ সফল হয়েছে।
৮ এপ্রিল নৈহাটি মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ৩ যুবককে কুপিয়ে যখম করে মাদকসেবীরা। এর কয়েকদিন পূর্বে ৩০ মার্চ বাগমারা গ্রামের রুবেল শেখ (৩২) বাগমারা মোমিন সুফি জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে বের হলে ৬-৭টি মোটরসাইকেল ১৪-১৫ জন মুখোশ পরিহিত সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।। একই দিনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের সালাম শেখের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২) কে ৫-৬ জন সন্ত্রাসী গুলি করে।অপরদিক,গত বছরে ৩০ অক্টোবর রাতে শ্রীফলতলা পুলিশ ফাঁড়ির নিকট জামাল গাজী (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে গলাকেটে হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে।২১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার জয়পুর গ্রামের হেলার বটতলায় সাব্বির (২৭) নামের এক যুবক সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়।একই বছরের ৬ ডিসেম্বর বিকালে রূপসা মর্ডান সী ফুডের সামনে বাগমারা গ্রামের ইমরান হোসেন (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।২৩ জানুয়ারি সন্ধার আইচগাতী ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার ইকরাম হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবককে সন্ত্রাসীরা তার নিজ বাড়িতে গুলি করে আহত করে।
এব্যাপারে,স্থানীয়রা জানায়, খুলনা শহরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা রূপসা উপজেলা ঘিরে নিজেদের আস্তনা গড়ে তুলেছে।অপরদিকে,খুলনা থেকে রূপসার অদূরে গ্রাামাঞ্চল হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে তাদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এরসঙ্গে জড়িত কয়েকটি গ্রুপ আর শতাধিক কিশোর রয়েছে।সম্প্রতি রূপসা অঞ্চল মাদকের হটস্পটে পরিণত হয়েছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাই মাদক ব্যবসায়ী। নিজেদের মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারে প্রতিপক্ষকে জানান দিতে বিভিন্ন জায়গায় গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেরকে প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছি বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। যদিও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই অপরাধীরা তাদের নিত্যদিনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এ ব্যাপারে, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজজাক মীর বলেন, এ সকল হত্যাকারী ও অপরাধ কর্মকান্ডে যারা জড়িত তাদের ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনের সকল চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অধিকাংশ অভিযানে পুলিশ সফল হয়েছে।