শিক্ষক আটক শেষে শোকজের শর্তে মুক্ত
স্টাফ রিপোর্টার: খুলনায় ডাক বিভাগের মেইল ক্যারিয়ার পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজের এক শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শোকজের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন প্রভাষক মোঃ হাফিজুর রহমান।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, হল নং ৫০৮ এ প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন মোঃ হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে তিনি প্রশ্নপত্র নিয়ে হলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আনুমানিক ১০ মিনিট আগে তিনি ওই কক্ষের হল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট থেকে একটি প্রশ্ন নিয়ে হল ত্যাগ করেন।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা হল সুপারসহ দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পরে প্রায় ১০ মিনিট পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সিঁড়ির কাছে প্রশ্নপত্রসহ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরীক্ষা শেষে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একইসঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানুর রশিদ অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তার নির্দেশে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য শিক্ষককে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, খুলনা ডাক বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের ঘটনায় তাৎক্ষণিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় (পিএমজি) কার্যালয়ে এক ধরনের মোবাইল কোর্টের আদলে বৈঠক বসে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, শুনানিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষের ইনভিজিলেটরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা হয় এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়। শুনানি শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়নি। ফলে আটক শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি রেকর্ডভুক্ত রাখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজি কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। বরং তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন বলে দাবি করেন তারা। এতে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঘটনাটির পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজি কবিরের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যাবশ্যক।