/ হাট-বাজার টেন্ডার বিরোধ মুরাদ খান হত্যার মূল কারণ

হাট-বাজার টেন্ডার বিরোধ মুরাদ খান হত্যার মূল কারণ

দিঘলিয়ায় চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মুরাদ খান হত্যাকান্ড

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি,দিঘলিয়া (খুলনা) : দিঘলিয়ার সেনহাটীতে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মুরাদ খান হত্যায় কোন গ্রেফতার নেই। হাট-বাজার টেন্ডার নিয়ে বিরোধ মুরাদ হত্যার মূল কারণ। হত্যাকারিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে মাঠে। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ময়না তদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে মুরাদের লাশ তার হাজীগ্রামের বাড়িতে পৌছায়। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল নিহত যুবদল নেতা মুরাদ খান এর বাড়িতে এলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আছর নামাজবাদ হাজীগ্রাম ঈদগাঁ ময়দানে নামাজে জানাজায় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুরাদের হত্যাকারিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।হত্যাকারি যেই হোক তাকে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,এক রাতের মধ্যে মুরাদ খানের হত্যাকারিকে গ্রেফতার করতে হবে। যদি তা না করেন তাহলে আমরা ধরে নিবো হত্যাকারিকে গ্রেফতার করতে চাচ্ছেন না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েত, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা মনিরুজ্জামান মনির। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটীতে যুবদল নেতা মুরাদ খান হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয় উপজেলার ১৪টি হাট-বাজারের দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে। গত ১৮ফেব্রুয়ারি ছিল উপজেলার ১৪টি হাট-বাজারে ইজারার দরপত্র দাখিল। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন দরপত্র দাখিল করতে গেলে সেনহাটী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ খানের সাথে বচসা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধান করে দিলেও ভেতরে ছিল পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। যার ফলশ্রুতিতে শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচ টায় সেনহাটী মিয়া পাড়ায় যুবদল নেতা মুরাদ খানকে পেয়ে ১০/১৫ জন অস্ত্রধারী তার উপর প্রকাশ্য দিবালোকে আক্রমণ করে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া দু,পায়ের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুরাদ খানের মৃত্যু হয়। এঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানান। এবং সহযোদ্ধা খান মুরাদ হোসেনের রক্তের শপথ করে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুরাদ খান হত্যাকান্ডে থানায় কোন মামলা হয়নি ও হত্যাকান্ডে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি।