নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট, খুলনা- মোংলা রেলপথ উদ্বোধনের পর প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও লোকবল সংকটের দোহাই দিয়ে রামপালের সেই রেল স্টেশনটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্টেশনটি তালাবদ্ধ থাকায় রামপাল উপজেলার মানুষ রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
খুলনা- মোংলা রেল প্রকল্পের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায় দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সাথে মোংলা বন্দরকে যুক্ত করতে বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যেগে মোংলা থেকে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ রেলপথ নির্মান করা হয়। দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে রামপাল উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে টানা ২০ কিলোমিটার রেলপথ। এ ২০ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে রামপাল সদর ইউনিয়নের ভাগা নামক এলাকায় খুলনা- মোংলা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি রেল স্টেশন নির্মান করা হয়। এ স্টেশনের নাম দেয়া হয় ভাগা রেল স্টেশন।
উল্লেখ্য বিগত ২০২৪ সালের জুন মাসে এ রেলপথে আনুষ্ঠানিক ভাবে রেল চলাচল শুরু হয়। রেল চলাচরের পর একদিনের জন্যও এ রেল স্টেশনে রেল বিরতি দেয়া হয়নি। এরফলে প্রায় দেড় বছর ধরে এ উপজেলার মানুষ রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্টেশনটি বন্ধ থাকায় এ উপজেলার মানুষ মোংলার দিগরাজ অথবা বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি রেল স্টেশনে গিয়ে রেলে উঠছে। এতে রেল যাত্রীদের সময় ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাড়া দুরত্বের কারনে অনেকে সময় মতো রেলে উঠতে পারেনা।
বন্ধ রেল স্টেশনটি সরেজমিনে দেখা গেছে কোনো নিরাপত্তা কর্মি না থাকায় স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাইগ্লাস, বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। একটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে কক্ষ উমুক্ত করে রাখা হয়েছে। একটি টয়লেটের তালা ভেঙ্গে নিয়মিত টয়লেট করা হচ্ছে। পুরো স্টেশন জুড়ে বিড়ি সিগারেটের খোসা ছড়ানো রয়েছে। ফ্লাট ফর্ম ছাড়াও স্টেশনের টিনের চালের উপর বসে কেউ কেউ আড্ডাও দেয়। সন্ধ্যা নামলে বখাটেদের আগমন বেড়ে যায়। আড্ডা চলে মধ্যেরাত পর্যন্ত।
এ স্টেশনের কাছাকাছি বসবাস করে এমন একজন নারী ও একজন পুরুষ নাম প্রকাশ না করে বলেন রাতে বখাটেরা মাদকের আড্ডার পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। রাতে স্টেশনে আলো জলেনা। সন্ধ্যা নামলেই একটা ভুতড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারন মানুষ সন্ধ্যার পর এ স্টেশনের দিকে পা বাড়ায়না।
এ রেলপথ চালুর পর থেকে দিনে একবার বেতনা এক্সপ্রেস নামের একটি রেল মোংলা থেকে বেনাপোল স্থল বন্দর পর্যন্ত আসা- যাওয়া করে। প্রায় দেড় বছর পর লোকসানের দোহাই দিয়ে গত ১১ জানুয়ারী একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে এ রেল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই সংস্থাটি এখন রেল পরিচালনা করছে।
এ ব্যপারে খুলনা- মোংলা রেল প্রকল্পের সাবেক (সদ্য অবসরে যাওয়া) প্রকল্প পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন লোকবলের অভাবে এ স্টেশনটি চালু করা যায়নি এটা সত্য। তবে ওই কর্মকর্তা এ বিষয় আরো বিস্তারিত জানতে খুলনা রেল স্টেশন মাস্টারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। খুলনা রেল স্টেশন মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানিয়ে পরে কথা বলবেন এমনটা জানানো হয়।
এদিকে এ রেল স্টেশন চালুর দাবী করে গত ১০ নভেম্বর রামপাল উপজেলা নাগরিক সমাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসির কাছে একটি স্মারক লিপি দেন।