মোরেলগঞ্জ অফিস : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক বিসিআইসি সার ডিলারে ইউরিয়া সারের বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪০ কেজি ৫শ’ গ্রাম হওয়ায় জনতার তোপের মুখে পড়ে সার ডিলার। এ নিয়ে হট্টগোল, কৃষি কর্মকর্তাদের টিম গুদামে অভিযান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে।
সরেজমিনে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের মেসার্স জয়গুরু ভান্ডার বিসিআইসি অনুমোদিত সারের ডিলার বিমল কৃষ্ণ রায়ের দোকন থেকে লঞ্চঘাট এলাকার কামরুজ্জামান শেখ দুপুরে ১ বস্তা ইউরিয়া সার ১৩৫০ টাকায় ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তার বস্তায় কম সন্দেহে দোকানদার বস্তাটি পরিমাপ করে দেখতে পায় ৫০ কেজির পরিবর্তে সেলাইকৃত বস্তায় রয়েছে মাত্র ৪০ কেজি ৫শ’ গ্রাম সার। তাৎক্ষনিক ওই দোকানদার সারের বস্তা ফেরত নিয়ে আসলে ডিলারের কাছে বস্তা পুনরায় মাপ দিয়ে দেখা যায় বস্তায় রয়েছে মাত্র ৪০ কেজি ৫শ’ গ্রাম সার। এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন জড় হয়ে বিষয়টি প্রতিবাদ করলে জনতার তোপের মুখে পড়েন ডিলারের ছোট ভাই নকূল কুমার সাহা, তাৎক্ষনিক ডিলার বলেন এবারের বরাদ্দকৃত প্রতিটি সার বস্তায় কম রয়েছে। বিষয়টি তিনি কৃষি অফিসের কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে অবহিত করলে কিছুক্ষন পর ঘটনা স্থলে কৃষি অফিসের ৩ সদস্যর একটি টিম এসে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে নেয় এবং জয়গুরু ভান্ডারের সারের গুদাম পরিদর্শন করে একাধিক সারের বস্তা পুনরায় পরিমাপ করেন। সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে কোন কোন বস্তায় ৪৪ কেজি ৪শ’ গ্রাম, ৪২ কেজি ৩শ’ গ্রাম সার, ৪৫ কেজি ২শ’ গ্রাম একাধিক বস্তায়ই কম সার রয়েছে। পরবর্তীতে পাশেই বিসিআইসি অনুমোদিত অন্য ডিলার মেসার্স ভ্যারাইটি স্টোর এর প্রোপাইটর আব্দুল ওহাব বেপারীর গুদামেও কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে গুদামে ২৪৩ বস্তা সারের মধ্য থেকে ১৬ টি বস্তায় সার রয়েছে কম।
ওই গুদামে ৪ টি বস্তা পরিমাপ করা হলে সেখানে পাওয়া যায় কোন কোন বস্তায় ৪৪ কেজি ৬শ’ ৪৮ কেজি ২শ’ আবার ৫০ কেজি ১শ’ গ্রাম বস্তা রয়েছে। ডিলার মোঃ ওহাব বেপারী বলেন, বরাদ্দকৃত ১০ টন ইউরিয়া সার ২০০ বস্তা শুক্রবার গুদামে উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কৃষক সার ক্রয় করতে আসলে বস্তায় কম রয়েছে সন্দেহ হলে ১৬ বস্তা পৃথক করে রাখা হয়েছে। এদিকে মেসার্স জয়গুরু ভান্ডারের বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার নকূল কুমার সাহা বলেন তার বরাদ্দকৃত ৮ টন ১৬০ ইউরিয়া সার ২ দিন হয়েছে উত্তোলন করেছেন। এবারে প্রতি বস্তায় সার কম রয়েছে সন্দেহ হলে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ সার কম দেননি। যেখান থেকে সার বস্তা প্যাকেটজাত করা হয়েছে তখনই সার কম দেওয়া হয়েছে।
সার কম দেওয়ার ঘটনা নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হওয়ায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য সরেজমিনে তদন্ত টিমের প্রধান কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষনকারী কর্মকর্তা ডল্টন রায় বলেন, এখন থেকে প্রতিটি ডিলার কৃষকদের সার বস্তা ওজন করে মেপে বিক্রি করবেন। যে বস্তায় যতটুকু সার কম রয়েছে সেই অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে ডিলার টাকা নিবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের ক্ষেত্রে ও এরকম অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সরেজমিনে গিয়ে উদ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।