/ দেড় বছর পর আজ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

দেড় বছর পর আজ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

১৪ পদে ৪ প্যানেলে ৪৮ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ দেড় বছর আহবায়ক কমিটির অধীনে পরিচালিত হওয়ার পর অবশেষে নির্বাচনের মুখ দেখছে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে শুধু উৎসবমুখর পরিবেশই নয়, বরং পেছনের দীর্ঘ বিলম্ব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


নির্বাচনে ১৪টি পদে চারটি প্যানেলের মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২০২ জন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি ভবনে টানা ভোটগ্রহণ চলবে।


সমিতি প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী আমেজে সরগরম পুরো এলাকা। ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানা ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে চারপাশ। প্রার্থীদের ছবি সংবলিত হ্যান্ডবিল হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের কাছে। তবে এই দৃশ্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার ক্ষোভও।


নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর তিন মাসের জন্য একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু নির্ধারিত তিন মাস তো দূরের কথা, প্রায় দেড় বছরেও নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয় ওই কমিটি। এতে করে সমিতির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসাইন বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা কাজ করছি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডভোকেট শেখ আব্দুল আজিজ, সদস্য হিসেবে রয়েছেন এডভোকেট এস এম মনজুর কাদের ও এডভোকেট এস এম মুজিবর রহমান।


নির্বাচনে অংশ নেওয়া চারটি প্যানেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, সততায় অঙ্গীকারবদ্ধ আইনজীবী প্যানেল এবং সম্মিলিত পরিষদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।


জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী এডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদ বলেন, আইনজীবী সমিতি একটি পেশাজীবী সংগঠন। এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এবং যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক। আমাদের প্যানেল বিজয়ী হলে সকল সদস্যের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করব।


অন্যদিকে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি প্রার্থী এডভোকেট মো. আবুল খায়ের বিলম্বিত নির্বাচন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, তিন মাসের জন্য গঠিত এডহক কমিটি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই, এবার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এবং ভবিষ্যতে এমন বিলম্ব আর না ঘটে।


এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সমিতির কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাই নয়, বরং সমিতির গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশেষ করে এডহক কমিটির দীর্ঘ মেয়াদ এবং তার কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরও অনেকটা নির্ভর করছে এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর।


সব মিলিয়ে, ভোটারদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কতটা আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরে।