/ জ্বালানি সংকটে চিতলমারীতে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা

জ্বালানি সংকটে চিতলমারীতে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা

শফিকুলইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট) : চিতলমারীতে জ্বালানি তেলের সংকটে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা জীবিকা হারানোর শঙ্কায় তারা পরিবার নিয়ে চরম দু:শ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ফলে হঠাৎ করে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন এসব চালকরা।


উপজেলার একমাত্র পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবারহ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও পর্যপ্ত তেল পাচ্ছেনা মোটরসাইকের চালকরা। অনেক সময় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে সিমিত ৩’শ থেকে ৪’শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।যা দিয়ে মোটরসাইকেলে একাধিক ট্রিপ চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে উপজেলার ভাড়ায় যাত্রী বহনকারী চালকদের । প্রায় ১০-১২ দিন হলো যাত্রী বহন করতে না পারায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এসব চালকদের।


ঋাড়ায় যাত্রী বহন এ সকল মটরসাইকেল চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় অনেক বেকার যুবকদের কোন কর্মসংস্থান না থাকায় ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালিয়ে সংসার চালান। জীবিকার তাগিদে অনেকে এ পেশাকে বেছে নিয়েেেছন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী আনা- নেওয়া করে থাকেন তারা। বাগেরহাট, খুলনা, গোপালগঞ্জ, নাজিরপুরসহ আশপাশের জেলা- উপজেলার অনেক যাত্রীরা এ সকল ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকটে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালকদের দুরাবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে অনেকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান।


উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের মোটর সাইকেল চালক মো. আযুব আলী শেখ জানান, অনেকে কিস্তি বা ঋন নিয়ে মোটরসাইকেল কিনে এই পেশায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটে এখন গাড়ি চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে কিভাবে সংসার চালাবেন এবং কিভাবে কিস্তির টাকা শোধকরবেন সেটি ভেবে পাচ্ছেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


চিতলমারী উপজেলার মোটর সাইকেল শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত হোসেন মোল্লা জানান, বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিন পার করছেন তারা। একদিকে রাস্তায় যাতায়েতের লোকজন কম পাশাপাশি গাড়ির তেল মিলছে না। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা যেতে চায় না। সব মিলিয়ে খুবই সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।