/ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সেইফ প্লাস প্রকল্পের বিভাগীয় মতবিনিময় সভা

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সেইফ প্লাস প্রকল্পের বিভাগীয় মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্লাস্টের আয়োজনে সেইফ প্লাস প্রকল্পের বাল্যবিয়ে নিরসনে বিভাগীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা জেলার সমাজ সেবা কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্লাস্টের খুলনা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ফাতেমা খন্দকার রিমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্লাস্টের খুলনা ইউনিটের উপদেষ্টা এডভোকেট অশোক কুমার সাহা।

এ সময় বক্তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কার্যক্রম চালাতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনিকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। স্কুলের শিক্ষকদের অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে হবে। নোটারি পাবলিক এর ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে হবে। বখাটে ছেলেদের নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভালো থাকার স্বপ্ন দেখাতে হবে। বিশেষ করে নারীদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় করতে হবে।

ব্লাস্টের প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র আউটরিচ অফিসার দিপা মালাকার বলেন, দিনাজপুর, ঢাকা, পটুয়াখালী এবং খুলনায় তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাতশত ৫০জন ইয়ুথ সদস্য রয়েছে তাদের। তারা বাল্য বিয়ের জন্য নানান কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে। ব্লাস্ট বিনামূল্যে নির্যাতিত নারী এবং অবহেলিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান করে।

ফরিদপুর ইউনিটের সমন্বয়কারী এডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, বিয়ের পর ১৪-১৫ বছর বয়সে বাচ্চা জন্ম দেয়। তখন তাদের চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ফলে তাদের স্বামীরা অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়। বাল্য বিয়েতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পর্যন্ত দাওয়াত খেয়ে যায়। তাহলে কিভাবে সম্ভব বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা? লটারি পাবলিককে জবাবদিহিতা আনতে হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম সাইদুর রহমান বলেন, বাল্য বিয়ের মূল কারণ হলো দরিদ্রতা। যে কারণে বাল্যবিয়ে নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। নারী শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও নিয়মিত তাদের খোঁজ খবর রাখতে হবে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু তালেব বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে বাল্য বিয়ে হয়। কালের পরিক্রমায় বাল্যবিয়ে কমে আসছে। বিয়ে সম্পন্নেন পরেও ছেলেমেয়েকে আইনের বল প্রয়োগ করতে হবে। নোটারি পাবলিক এবং কাজীদের ওপর দৃষ্টি রাখতে হবে।

সভাপতিত্ব করেন আবু তালেব সহকারী পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর খুলনা এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট হালিমা আক্তার খানম সহ-সভাপতি ব্লাস্ট খুলনা ইউনিট, প্রধান কার্যালয়ের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মাহাপারা আলম, পটুয়াখালী ইউনিটের সমন্বয়কারী এডভোকেট আবুবকর সিদ্দিক, ১নং ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ মাহমুদা খাতুন। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ডিডি সুরাইয়া খাতুন, এডভোকেট রমা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিডি মোঃ মোস্তাক উদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম সাইদুর রহমান, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দিলওয়ার হোসেন, এমইএএল এন্ড এমআইএস এর সহকারী পরিচালক মো: রাফকুল ইসলাম প্রমুখ।