/ কলারোয়ায় অন্ধ ঘোড়ার আশ্রয়দাতা কলেজছাত্র সোহান, সহায়তার হাত বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

কলারোয়ায় অন্ধ ঘোড়ার আশ্রয়দাতা কলেজছাত্র সোহান, সহায়তার হাত বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

জীবপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া(সাতক্ষীরা):
জীবের প্রতি ভালোবাসা যে মানুষের হৃদয়কে কতটা মহৎ করে তুলতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার চন্দনপুর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা সোহান। ঘটনাটি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের। দরিদ্র পরিবারের এই তরুণ নিজের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে একটি অসুস্থ ও অন্ধ ঘোড়ার আশ্রয়দাতা হয়ে এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও একটি অসুস্থ ও অন্ধ ঘোড়াকে আশ্রয় দিয়ে তার সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।


বুধবার বিকেলে সরেজমিনে যেয়ে জানা যায়, কলারোয়ার সীমান্তবর্তী ইছামতি ঘেঁষা চান্দুড়িয়া গ্রামের কৃষক নাইমুর রহমানের ছেলে কলেজ ছাত্র মাসুদ রানা সোহান আনুমানিক বছরখানেক আগে তার গ্রামের শ্মশানঘাটে একটি অসুস্থ ও অন্ধ ঘোড়াকে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রাণীর প্রতি মমতাবোধ থেকে তিনি অসুস্থ ঘোড়াটিকে বন্ধুদের সহায়তায় নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ পরিচর্যা। নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা ও যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে ঘোড়াটি। ঘোড়াটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, তরতাজা ও প্রাণবন্ত। এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ঘোড়াটির চিকিৎসাসেবায় যথেষ্ট সহায়তা করে। তবে ঘোড়াটির লালন-পালনে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ায় সোহানের পরিবারের জন্য তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও মায়া ও দায়বদ্ধতার টানে সোহান প্রাণীটির পরিচর্যা চালিয়ে যান। এঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল,এমপি-এর। সোহানের মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে তিনি ঘোড়াটির প্রতিপালনের জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ সোহানের হাতে পৌঁছেছে বলে সোহান এ প্রতিবেদককে জানান। সোহান আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহায়তার অর্থ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার হাতে পৌঁছে দেন বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা। ঘোড়াটি প্রতিপালনের জন্য ১৫ হাজার টাকার সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সোহান বলেন, “ঘোড়াটিকে আমি পরিবারের একজন সদস্যের মতো মনে করি। অনেক কষ্ট হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা কখনও ভাবিনি। ছোটোবেলা থেকে আমি পশুপাখি খুবই পছন্দ করি। আমি এই ঘোড়াটিকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। চোখে দেখতে না পেলেও আমার হাতের স্পর্শ ঘোড়াটি অনুভব করে। আমার পরশে প্রাণীটি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আমার সব ভালোবাসা এখন প্রাণীটিকে ঘিরে। ঘোড়া প্রতিপালনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, এমপির এই সহযোগিতা আমাকে আরও উৎসাহিত করবে।” সোহানের বাবা নাইমুর রহমান বলেন, সোহানের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, অভাব অনটনের সংসার হলেও আমাদের পরিবারের সকলেই সোহানের পাশে রয়েছে। ঘোড়াটিই এখন সোহানের সকল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ মানবিক সহায়তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।


স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস, ডা. মতলেবুর রহমান হিরণ, শাহিন আলম, শিক্ষক আব্দুল গফুর মন্টু, সাংবাদিক আতাউর রহমান জানান, জীবের প্রতি সোহানের মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা বর্তমান সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। তার এই মানবিক উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে প্রাণী ও পরিবেশের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।


প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে সোহানের এই গল্প। তার নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি হিসেবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আরও সহযোগিতা এগিয়ে আসবে বলেও প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।